অক্সফোর্ডে পড়তে ১৯ বছরেই ফুটবল ছাড়লেন গার্দিওলার ছাত্র

তাকে বলা হতো ইংল্যান্ডের উদীয়মান প্রতিভা। টটেনহ্যাম হটস্পার ও ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমি দু’জায়গাতেই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। ডাক পেয়েছিলেন ইংল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৬ জাতীয় দলেও। সেই হ্যান উইলহফট-কিং মাত্র ১৯ বছর বয়সেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে ভর্তি হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে।

উইলহফট-কিং ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমিতে পেপ গার্দিওলার অধীনে ফুটবল শিখেছেন। টটেনহ্যাম হটস্পার ও ম্যানচেস্টার সিটির একাডেমি- দুই জায়গাতেই নিজেকে মেলে ধরেছিলেন। তিনি ইয়ায়া তুরের অধীনে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন। এছাড়া আর্লিং হালান্ড, কেভিন ডি ব্রুইনার মতো তারকাদের সঙ্গে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও ফুটবলের পরিবেশ তাকে আনন্দ দিত না। তাই উইলহফট-কিং পড়াশোনাকেই বেছে নিয়েছেন।

উইলহফট-কিংয়ের এমন সিদ্ধান্তের পেছনে ইনজুরির প্রভাবও আছে। টটেনহ্যামে দারুণ মৌসুম কাটানোর পর একের পর এক ইনজুরি তার অগ্রযাত্রায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০২১–২২ মৌসুমের পর থেকে তিনি নিয়মিতই শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হতে থাকেন। ম্যানসিটির জুনিয়র দলের হয়েও মাঠে নামতে পারেননি টানা কয়েক মাস। এই সময়টাকে তিনি জীবনের ‘অন্ধকার অধ্যায়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানকে উইলহফট-কিং বলেন, ‘ফুটবল আর উপভোগ করছিলাম না। প্রতিদিন অনুশীলন, তারপর বাসায় ফেরা—এর বাইরে কিছুই থাকত না। মনে হতো, দিনের অনেকটা সময় নষ্ট হচ্ছে। এখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে সময় কাটানো—সব মিলিয়ে দিন ছোট হয়ে আসে।”

ফুটবল ক্যারিয়ারের পাশাপাশি পড়াশোনাতেও সবসময় মনোযোগী ছিলেন উইলহফট-কিং। গণিত, অর্থনীতি ও ইতিহাসে তার ফলাফল ছিল অসাধারণ। যুক্তরাষ্ট্রের ইউসিএলএ ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্পোর্টস স্কলারশিপের প্রস্তাবও পান। এমনকি এমএলএস নেক্সট প্রোর ক্লাব এফসি সিনসিনাতির দ্বিতীয় দলে খেলার জন্য চুক্তিও করেছিলেন। দুই সপ্তাহের মধ্যেই ম্যানচেস্টার সিটি থেকে যাক আসায় সিদ্ধান্ত বদলান তরুণ মিডফিল্ডার।

পেপ গার্দিওলার দলে যোগ দিলেও ক্লাবটি তার মনে ধরেনি। দীর্ঘ চিন্তাভাবনার পর অক্সফোর্ডের ব্রেজেনোজ কলেজে আইন বিষয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে ফুটবলকে বিদায় জানান তিনি। ম্যান সিটির অভিজ্ঞতা নিয়ে উইলহফট-কিং বলেছেন, ‘গার্দিওলার সেশনে সারাক্ষণ প্রেসিং করতে হতো। আমরা বলের পেছনে ছুটতাম ঘণ্টার পর ঘণ্টা। তারকাদের সঙ্গে অনুশীলন যতটা উত্তেজনাপূর্ণ শোনায়, বাস্তবে সেটা অনেকসময়ই ছিল কঠিন ও ক্লান্তিকর।’

উইলহফট-কিংয়ের মতে, ফুটবল ক্যারিয়ার ১০–১৫ বছরের বেশি হয় না। কিন্তু উচ্চশিক্ষা তাকে দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেবে। আসলে ফুটবল তিনি উপভোগ করছিলেন না। উইলহফট-কিং বিশ্বাস করেন যে, লিগ ওয়ান বা চ্যাম্পিয়নশিপে খেললে ভালো আয় করা সম্ভব। কিন্তু তার প্রশ্ন- ‘আমি কি সত্যিই এটা উপভোগ করতাম? আমি সবটুকু চেষ্টা করেছি। তাই সুযোগ পেয়েও চেষ্টা করিনি- এমন কিছু ভেবে আমাকে আফসোস করতে হবে না।’