পণ্য পরিবহন নীতিমালা বাস্তবায়নের দাবি বিসিভিওএ-কোয়াবের

জাহাজে পণ্য পরিবহন নিয়ে সরকারের পণ্য পরিবহন নীতিমালা-২০২৪-এর দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ কার্গো ভেসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিভিওএ) এবং কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব)।

গতকাল রবিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে লাইটার জাহাজ পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেলের (বিডব্লিউটিসিসি) পরিচালনা পরিষদ সংখ্যাগরিষ্ঠের ভিত্তিতে গঠন, বকেয়া ডেমারেজের ২১১ কোটি টাকাসহ চলমান সব ভাড়া পরিশোধ, পণ্য পরিবহনকারী জাহাজকে ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহার বন্ধ ও সব জাহাজের নৌ-নীতিমালা অনুযায়ী সিরিয়ালভুক্ত হয়ে চলার দাবি তুলেছে।

লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিসিভিওএ-এর সাধারণ সম্পাদক মেহবুব কবির। এ সময় কোয়াবের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ খুরশিদ আলম, বিসিভিওএ-এর সহ-সভাপতি জি এম সরোয়ার, যুগ্ম সম্পাদক মাসুদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে মেহবুব কবির বলেন, পণ্য পরিবহন নীতিমালা অনুযায়ী সিরিয়ালে পণ্য পরিবহন করার কথা থাকলেও ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের কতিপয় পণ্যের এজেন্ট সিন্ডিকেট সিরিয়ালবিহীন পণ্য পরিবহন করছেন। আমরা নীতিমালা অনুযায়ী সিরিয়ালে বসে থেকেও দু-তিন মাসে এক ট্রিপ পণ্য পরিবহন করছি। অন্যদিকে সিরিয়ালবিহীন চলাচলকারী জাহাজগুলো অবৈধভাবে মাসে তিন-চার ট্রিপ পণ্য পরিবহন করছে। কিছু কারখানার মালিক নীতিমালা বহির্ভূতভাবে চার্টার (ভাড়া করা) জাহাজ দিয়ে পণ্য পরিবহন করছেন।

তিনি আরও বলেন, কিছু পণ্যের এজেন্ট জাহাজ মালিকদের গেল ২০২৩ সাল পর্যন্ত নিষ্পত্তিকৃত ২১১ কোটি টাকা পরিশোধ করছেন না। পাশাপাশি তারা জাহাজ মালিকদের পরিবহন ভাড়া বাবদ পাওনা প্রায় ২০০ কোটি টাকাও পরিশোধ করছেন না। নিষ্পত্তিকৃত ডেমারেজের টাকার বিষয়ে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সিদ্ধান্ত দিলেও এখনো সেই পাওনা টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পরে এ বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত কমিটিও জাহাজ মালিকদের টাকা পরিশোধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়। কিন্তু চলতি বছরে এক সভায় কিছু এজেন্ট মালিক সেই টাকা দেবেন না বলে জানান। যার প্রতিবাদ আমরা করেছি।

মেহবুব কবির দাবি করেন, জাহাজ মালিকদের শত শত কোটি টাকা আটকে এজেন্ট মালিকরা একটির পর একটি জাহাজ কিনছেন। অথচ, তাদের জাহাজগুলো স্ক্র্যাপ হয়ে যাচ্ছে। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা চলতে থাকলে এক সময় জাহাজের সংকট প্রকট হয়ে পড়বে।

পণ্য পরিবহন নীতিমালা-২০২৪-এর নীতিনির্ধারণী কমিটিতে জাহাজের সংখ্যার অনুপাতের ভিত্তিতে প্রতিনিধি নির্ধারিত হওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি বলে জানান তিনি।

মেহবুব কবির বলেন, এসব সমস্যা আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমাধান করতে হবে। অন্যথায় ১৫ দিন পর জাহাজ চলাচল বন্ধ হলে এর দায়দায়িত্ব যথাযথ কর্তৃপক্ষকে নিতে হবে। এর জন্য তারা দায়ী থাকবেন না।