এখনো ‘ক্রসরোডে’ প্রশাসন

বর্তমান প্রশাসন গুরুত্বপূর্ণ ক্রসরোডে রয়েছে। ভুল শুধরে গতিপথ বদলানো ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু প্রশাসন আগের পথেই হাঁটছে। অথচ ক্রসরোড থেকে সোজা না গিয়ে ডান বা বাঁয়ে ঘুরে খাসলত বদলানোর সুযোগ ছিল।

প্রশাসন সঠিক পথে না থাকায় জনগণের আস্থা হারিয়েছে। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারায় দক্ষতা কমেছে। এ প্রশাসন গণতান্ত্রিক যাত্রার জন্য হুমকি। বর্তমান প্রশাসন ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে। এ প্রশাসনের নীতিনির্ধারকরাই এ কথা বলছেন।

গত ৮ আগস্ট প্রশাসন নিয়ে একটি সেমিনার আয়োজন করে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন। ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’ নামের ওই সেমিনারে মুখ্য সচিব সিরাজ উদ্দিন মিয়া থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মুখ্য সচিব সরাসরি বলেছেন, ‘প্রশাসন মিস ডাইরেক্টড। একটি ভঙ্গুর প্রতিষ্ঠান। রাজনীতিকরা তাদের প্রয়োজনে এখানে নিয়ে গেছেন। প্রশাসনের একটি নতুন ইমেজ তৈরি করার এটাই সময়। আরেকটি রাজনৈতিক সরকার এলে তা হাতছাড়া হবে।’

জনপ্রশাসনের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জনিয়েছেন, আরেকটি রাজনৈতিক সরকার দরজায় কড়া নাড়ছে। তাদের দায়িত্ব নেওয়ার আগের সময়টুকুতে আর কতটুকুইবা করার আছে? রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় মৌলিক কিছু প্রতিষ্ঠান থাকে, তার ওপরই ভিত গড়ে ওঠে। বিগত বছরগুলোতে সেই প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাকে দলীয়করণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় স্বার্থ না দেখে ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ফাইন্যান্স সিস্টেম, মানি মার্কেট, ল ইনফোর্সমেন্ট সিস্টেম, জুডিশিয়ারি, এডুকেশন, ব্যাংক খাত অকার্যকর করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউর) মতো সংস্থা অকার্যকর করে দেশ থেকে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে, যা প্রবাসীদের শ্রম ঘামের ১০ বছরের অর্জন। এসব অর্থ রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গণমাধ্যম, ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্য, মূল্যবোধহীন মানবাধিকার সংস্থা, সিভিল সার্ভিস, পাবলিক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধার বদলে কোটা, পদোন্নতিতে কোটা, স্বায়ত্তশাষিত প্রতিষ্ঠানগুলোর দলকানা আচরণ জনগণকে কল্যাণ রাষ্ট্রের সেবা দিতে পারেনি। এভাবেই প্রশাসন চরিত্র হারিয়েছে।

আগস্ট মাসের ওই সেমিনারে বর্তমান শ্রম সচিব সানোয়ার জাহান ভূঁইয়া প্রশাসনের পথচ্যুতি তুলে ধরেন। তার মতে, আক্ষরিক অর্থেই দেশের প্রশাসন সাম্প্রতিককালে ক্রসরোডে চলছে। তিনি বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানে প্রায় দুই হাজার ছাত্র-জনতাকে হত্যা করা হলেও মানবাধিকার কমিশন ন্যূনতম উষ্মাও প্রকাশ করেনি। এতটাই দলান্ধ হয়েছিল স্বায়ত্তশাসিত এসব প্রতিষ্ঠান। দেশের জনগণ ডিসি, ইউএনও অফিসকে নিজেদের মনে করতে পারে না, তারা ভাবতে পারে না ডিসি আমাদের, ইউএনও আমাদের, ভূমি অফিস আমাদের, পুলিশ প্রশাসন আমাদের।’ দুর্নীতিমুক্ত জনসেবা নিশ্চিতে প্রজাতন্ত্রের প্রশাসন তৈরি করতে হবে বলেও মত দেন তিনি।

প্রশাসনের এ অসম আচরণ নিয়ে শ্রম সচিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চলমান এ অপসংস্কৃতির পরিবর্তন করতে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে। নানা সংস্কারের প্রস্তাবনা এসেছে। আর সেই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়ন না করতে পারলে সহসাই জনগণ তাদের প্রাপ্য নাগরিক সুবিধা পাবেন না। দেশে অনেক অনিয়মই সংস্কৃতি হয়ে সহনীয় হয়ে গেছে। জনগণ ধরেই নিয়েছে এ থেকে উত্তরণ নেই।’

অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পরপরই সে সময় দায়িত্বরত অধিকাংশ সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা করা হয়। অনেককে পাঠানো হয় অবসরে। কিন্তু রাতারাতি এসব পদে উপযুক্ত কর্মকর্তাদের বসানো সম্ভব হয়নি। সেতু বিভাগ, পরিকল্পনা কমিশন, জাতীয় সংসদ সচিবালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা কমিশন, বাস্তবায়ন প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ, পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীর্ঘদিন সচিব ছিল না। কাজ চালিয়ে নিয়েছিলেন অতিরিক্ত সচিবরা। সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়েও ঘটেছে একই ঘটনা। তিন সপ্তাহ সচিবশূন্য থাকার পর নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়। এতে করে তৈরি হয় নানা জটিলতা ও রাজনৈতিক সমীকরণ।

জনপ্রশাসনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় চলছে চুক্তিভিক্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত সচিব দিয়ে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজনৈতিক আদর্শিক সংকট। গত বছর ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগের সরকারের পদায়ন করা কর্মকর্তাদের মাধ্যমেই কার্যক্রম শুরু করে অন্তর্বর্তী সরকার। ধীরে ধীরে বিভিন্ন পদে আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের পদায়ন করা শুরু হয়। কিন্তু বিভিন্ন ক্ষেত্রে পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তারা গোপনে আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলে অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় অনেককে ওএসডি করা হয়। এর ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যেও শঙ্কা বিরাজ করছে। অনেকে যেকোনো সময় ওএসডি ও বহিষ্কারের আতঙ্কে রয়েছেন। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারও নির্ভর করার মতো কর্মকর্তা পাচ্ছে না।

প্রশাসনে চলমান এসব সংকট নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অনেকরকম পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার হচ্ছে। কিছু সংকট দূর হয়েছে। আরও চেষ্টা চলছে। সব সংস্কার প্রস্তাবও বাস্তবায়ন যোগ্য নয়। সরকার সবকিছু বিবেচনা করছে।’

আমলারা জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারছে না কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ জনগণের সঙ্গে আমলাতন্ত্রের সম্পর্ক ভালো করবেন রাজনীতিবিদরা। তারা জবাবদিহির কাজটি করবেন জনগণ এবং আমলাদের মধ্যে। যেহেতু রাজনীতিবিদরা তা করতে পারছেন না, সেজন্য বোঝাপড়াও সহজ হচ্ছে না। আমলারাও নিজেদের ক্ষমতাটুকু হাতেই রাখছেন।’

পৃথিবীর যেকোনো ব্যবস্থা চালাতে দক্ষ ও যোগ্য আমলার বিকল্প নেই। এখনো আমলাতন্ত্রের বিকল্প গড়ে ওঠেনি। সে কারণেই আমলাদের ওপরই ভর করতে হয়। কিন্তু এ আমলাতন্ত্রকে সময় উপযোগী করতে হয়। এজন্য সময়ে সময়ে সংস্কারের প্রয়োজন হয়। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের কোনো সংস্কার হয়নি। আমলাতন্ত্রের ভেতরের লোক দিয়েই সংস্কারের জন্য কমিটি হয়েছে। তারা যে সংস্কারের প্রস্তাব করেছে, এগুলো বাস্তবায়ন করলেও কোনো আহামরি পরিবর্তন আসবে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

অতীতের মতো এখনো প্রশাসনে পদের চেয়ে কর্মকর্তা বেশি। অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিদের পদসংখ্যা (প্রেষণসহ) ১ হাজার ৮৩৯টি। অথচ এসব পদের বিপরীতে কর্মকর্তা রয়েছেন ২ হাজার ৯৬৬ জন। পদোন্নতিপ্রাপ্তদের বেতন-ভাতা ও মর্যাদা বাড়লেও অনেকে পদ খালি না থাকায় আগের কাজই করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের গত এক বছরের বেশি সময়ে প্রশাসনে পদোন্নতি পেয়েছেন ১ হাজার ৮১৭ জন কর্মকর্তা। এর মধ্যে সিনিয়র সহকারী সচিব থেকে সিনিয়র সচিব পর্যন্ত নিয়মিত পদোন্নতি পেয়েছেন ৭৮৫ জন। অন্যদিকে ৭৬৪ জন আওয়ামী আমলে বঞ্চিত বিএনপি-জামায়াতসমর্থিত কর্মকর্তা ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি পেয়েছেন। গত ২৮ আগস্ট উপসচিব পদে ২৬৮ জনকে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং গত ২৪ ডিসেম্বর জানিয়েছিল, বঞ্চিত কর্মকর্তাদের ভূতাপেক্ষ পদোন্নতির জন্য বকেয়া বেতন ও ভাতাদি বাবদ সরকারের ৪২ কোটি টাকা খরচ হবে। এ ছাড়া তাদের পেনশন বাবদ বছরে অতিরিক্ত ৪ কোটি টাকা ব্যয় করতে হবে। এসব পদোন্নতির জন্য প্রশাসনের অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় গড়াগড়ি দেন। পদোন্নতিটাই তাদের কাছে মুখ্য। এ কারণেই গড়াগড়ি দিয়ে নিজেদের সম্মান বিসর্জন দিতে তাদের আটকায়নি।

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন নিয়েও চলছে আন্দোলন। প্রশাসন ছাড়া ২৫ ক্যাডারের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে সবচেয়ে বেশি সুবিধাপ্রাপ্ত হিসেবে চিহ্নিত। বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলার কারণে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অন্তত ২০ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে অথবা অন্য শাস্তি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে হাতাহাতির ঘটনায় জড়িত প্রশাসন ক্যাডারের ১৫ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে সত্যতা মিললেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের কয়েকজনকে বরং উপসচিব থেকে যুগ্ম সচিব পদে উন্নীত করা হয়েছে। রাজস্ব ক্যাডারের নেতারা জানান, কোনো একটি ক্যাডারের কর্মকর্তারা সচিবালয়ে মারামারি বা দুর্নীতি যা-ই করুন, তাদের কিছুই হয় না বরং ভালো ভালো পদায়ন ও পদোন্নতি পান। আমরা কীভাবে এ প্রশাসনের প্রতি আস্থা রাখব?’ একই প্রশ্ন তোলেন শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও তথ্য ক্যাডারের কর্মকর্তারাও। অভিযোগ আছে, প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র ক্যাডারে দ্রুত পদোন্নতি হয়। অন্য ক্যাডারে বছরের পর বছর কর্মকর্তারা পদোন্নতির আশায় বসে থাকেন।

পদ না থাকলেও পদোন্নতি ছাড়া বিগত সরকারের আমলে জনপ্রশাসন নিয়ে কয়েকটি বিষয়ে সমালোচনা ছিল। এগুলোর মধ্যে কর্মকর্তাদের সম্পদের হিসাব নেওয়া বা গুরুত্বপূর্ণ পদে দলীয় বিবেচনায় পদায়ন অন্যতম। বর্তমান সরকার এসব সংকট দূর করেনি।

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদের নেতা মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে এর আগে আরও ২৬টি জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন বা কমিটি গঠিত হয়েছিল। অন্য সব কমিশন হতে এবারের কমিশন ভিন্ন হবে এমনটি প্রত্যাশা করেছিলাম। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনে ২৫টি ক্যাডারের পক্ষ থেকেই পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা এবং উপসচিব পদে কোটা বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছিল। সমাজের বিভিন্ন স্তর হতেও সিভিল সার্ভিসে পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হয়েছে। অথচ, জনদাবিকে উপেক্ষা করে সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে ক্ষমতাধর একটি গোষ্ঠীর নিরঙ্কুশ ক্ষমতা আরও বৃদ্ধির প্রয়াস লক্ষ করা গেছে। এ রিপোর্ট পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রচেষ্টা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে এবং প্রশাসনিক ফ্যাসিজম আরও শক্তিশালী হবে। আর সিভিল সার্ভিসের কার্যকর সংস্কার ছাড়া অন্য সব সংস্কার অকার্যকর হয়ে যাবে।’

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য পরিষদ দাবি করেছে, “পেশাভিত্তিক মন্ত্রণালয় (ক্যাডার যার, মন্ত্রণালয় তার) বাস্তবায়ন, উপসচিব পদে কোটা পদ্ধতি বাতিল করে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, সব ক্যাডারের সমতা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ক্যাডারসহ সব ক্যাডারকে একই কমিশনের আওতায় রাখা, পরিবার পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান ক্যাডারকে সার্ভিসে অব্যাহত রাখা, সুপিরিয়র এক্সিকিউটিভ সার্ভিসে প্রবেশের পর শুধু প্রশাসন ক্যাডারের জন্য আগের সার্ভিসে ফেরার সুবিধার প্রস্তাব বাতিল, জেলা কমিশনারকে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব প্রদানের প্রস্তাব বাতিল, ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস’-এর পরিবর্তে ‘ভূমি সার্ভিস’ বা ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা সার্ভিস’ নামকরণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে ‘মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়’ অথবা ‘সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়’ হিসেবে নামকরণ করতে হবে।”

সচিব পদে পদোন্নতি পাওয়াদের নিয়েও চলছে সমালোচনা। তাদের তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, এর মধ্যে ৩৫ জনই প্রশাসন ক্যাডারের ‘৮২ নিয়মিত ব্যাচের (১৯৮২ সাল)’ কর্মকর্তা। ‘৮২ বিশেষ ব্যাচ’ থেকে সচিব হন আরও ১০ জন। সব মিলিয়ে বিসিএস ৮২ ব্যাচের ৪৫ জন সচিব পদে পদোন্নতি পেলেন। বিগত সরকারের সময়ে এ ব্যাচ থেকে অনেকে সচিব হয়েছেন। বর্তমানে প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিব, সড়ক পরিবহন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ ১১টি মন্ত্রণালয়ের সচিব ৮২ ব্যাচের।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পদোন্নতির তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, যারা সচিব হয়েছেন, তাদের ৫০ জন অতিরিক্ত সচিব পদ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদ থেকে অবসরে যাওয়া ৯ জনকে সরাসরি সচিব করা হয়েছে। অর্থাৎ, তারা এক লাফে চার ধাপ পদোন্নতি পেয়েছেন। তারা হলেন সিরাজুল ইসলাম খান, এ জে এম সালাউদ্দিন নাগরি, আখতারুজ্জামান তালুকদার, আবি আবদুল্লাহ, এ কে এম ইহসানুল হক, ফরিদুল ইসলাম, নাজমুল আমিন মজুমদার, মাহফুজুল ইসলাম ও জাহিদুল ইসলাম।

বিসিএস পঞ্চম (১৯৮৪) ব্যাচে প্রশাসন ক্যাডারে মেধাক্রমে তৃতীয় হয়েছিলেন জাফর সিদ্দিক। তিনি ২০১৭ সালে যুগ্ম সচিব পদ থেকে অবসরে গিয়েছিলেন। এবার মেধাক্রমে তার চেয়ে পিছিয়ে থাকা ১১ জনকে সচিব পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দিয়েছে সরকার। কিন্তু তাকে দেওয়া হয়নি।

প্রশাসন কেন ক্রসরোড অতিক্রম করতে পারল না এ প্রশ্নের জবাবে সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারও আগের পথই অনুসরণ করেছে। দৃষ্টান্তমূলক কোনো সংস্কার জনগণের সামনে আনতে পারেনি। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যদি প্রশাসনে গ্রেডিং করে দোসর চিহ্নিত করতে পারত তাহলে আস্থা ফেরত আসত। এত বড় অভ্যুত্থান, এত জনসমর্থন থাকার পরও প্রচলিত বিশৃঙ্খলার পথেই হাঁটছে। মূলধারার যে সংস্কার, সেটি ফেরত আনতে না পারাও বড় ব্যর্থতা।’