জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত গণহত্যার দায়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদ- দেওয়ার ঘটনায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য।
তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের কার্যক্রম বিভিন্ন গণমাধ্যম সরাসরি সম্প্রচার করেছে। চেয়ারপারসন টিভিতে তা দেখেছেন। রায় শুনে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আশা করছেন, আদালতের রায় বাস্তবায়ন হবে এবং গত ১৭ বছর গুম, খুনের শিকার নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা স্বস্তি পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গুম, খুনের শিকার পরিবারগুলোর পাশাপাশি জুলাই বিপ্লবে শহীদদের মামলায় শহীদরা ন্যায়বিচার পেয়েছেন। আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তার সঙ্গে এতদিন যে অন্যায় করা হয়েছে, তার বিচার তিনি মহান আল্লাহ ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের একান্ত সহকারী এবিএম আব্দুস সাত্তার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এখনো ম্যাডামের বাসায় যাইনি। তবে টেলিভিশনে যেহেতু লাইভ সম্প্রচার হয়েছে, নিশ্চয়ই চেয়ারপারসন তা দেখেছেন।’
রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে : জুলাই অভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল যে রায় দিয়েছে, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা পেয়েছে বলে মনে করে বিএনপি।
গতকাল সোমবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির সাপ্তাহিক নিয়মিত বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বের জনমত এবং বাংলাদেশের জনগণের দাবি ও প্রত্যাশা ছিল যেন পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসরদের মানবতাবিরোধী নৃশংস, জঘন্য হত্যাকা- এবং গণহত্যায় অপরাধের বিচার করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রেখে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও তার দুই দোসরের বিরুদ্ধে রায় ঘোষিত হয়েছে। এ রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আইনের শাসন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ বিএনপি এ ব্যাপারে জনগণকে সদা সর্বদা সচেতন থাকার আহ্বান জানাচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপি অন্যান্য মামলায় অভিযুক্তদের সুবিচারের দাবি জানাচ্ছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এ রায়ের ফলে আমরা মনে করি, ১৬ বছরের গুম-খুন ও বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার এবং ২০২৪ গণঅভ্যুত্থানে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার সহস্রাধিক শহীদের আত্মা শান্তি পাবে এবং তাদের পরিবার-পরিজনদের ক্ষোভ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে।’
রাত সাড়ে ৮টায় গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির এ বৈঠক হয়। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর সাংবাদিকদের কাছে ব্রিফিং করেন বিএনপি মহাসচিব। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।