মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া বিশেষ ব্ল্যাক-টাই ডিনারে অংশ নিলেন পর্তুগিজ ফুটবল মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এই ভোজসভায় ছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। আরও উপস্থিত ছিলেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক এবং অ্যাপল সিইও টিম কুকসহ বিশ্বের শীর্ষ ব্যবসায়ী ব্যক্তিত্বরা।
ডিনারের আগে এক বক্তব্যে রোনালদোকে স্বাগত জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘ওকে আমন্ত্রণ জানানো আমাদের জন্য সম্মানের বিষয়।’ ট্রাম্প মজা করে আরও বলেন, রোনালদোর সঙ্গে দেখা করার পর তাঁর ছেলে ব্যারন নাকি বাবাকে আরও বেশি সম্মান করতে শুরু করেছে! সৌদি আরব তেলের ওপর নির্ভরতা কমাতে ক্রীড়া, পর্যটন ও বিনিয়োগে বৈচিত্র আনার চেষ্টা করছে। রোনালদো সেই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়ার অন্যতম মুখ।
সৌদি আরবকে ‘ন্যাটোর বাইরে প্রধান মিত্র’ উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, খেলাধুলা ও বিনিয়োগসহ নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এর আগে দিনেই হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে ক্রাউন প্রিন্স বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। যদিও মানবাধিকার ইস্যু ও ‘স্পোর্টসওয়াশিং’–এর অভিযোগে সৌদি আরবকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয় নিয়মিত। অনেকেই মনে করেন, বিশ্বের বড় তারকাদের নিয়ে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ এসব বিতর্ক আড়াল করার কৌশল।
২০১৬ সালের পর এবারই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফরে রোনালদোকে প্রকাশ্যে দেখা গেল। এর মাঝে তার বিরুদ্ধে এক নারীর আনা যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিকিউটররা ২০১৯ সালে প্রমাণের অভাবে মামলা না করার সিদ্ধান্ত নেন। গত জুনে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় রোনালদো ট্রাম্পকে অটোগ্রাফসহ একটি জার্সি উপহার দেন। সেই জার্সিতে লেখা ছিল- ‘প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য, যিনি শান্তির জন্য খেলছেন।’
২০২৩ সালে রোনালদো সৌদির আল নাসর ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন। বছরে প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে তিনি তখন বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়কারী ফুটবলার হয়ে যান। চলতি বছরের জুনে আরও বড় দুই বছরের চুক্তি করে তিনি এখন আনুষ্ঠানিকভাবে ফুটবলের প্রথম ‘বিলিয়নিয়ার’ খেলোয়াড়। সম্প্রতি রিয়াদে পর্যটন মন্ত্রণালয়ের এক অনুষ্ঠানে রোনালদো সৌদির উন্নয়ন পরিকল্পনার প্রশংসা করেন এবং ২০৩৪ বিশ্বকাপ সৌদিতে আয়োজনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।