ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবীনগরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনে বিএনপি এবার প্রকাশ্যে মোড় নিলো বিরোধে। মনোনয়ন বঞ্চিত ৭ প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা এবার এক মঞ্চে উঠে দাঁড়ালেন।
উল্লেখ্য, এ আসন থেকে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট এম. এ. মান্নানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয়। এর পর থেকেই মনোনয়ন বঞ্চিত প্রার্থীরা এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তারা মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে নজিরবিহীন মিছিল, মিটিং ও সমাবেশ করে আসছেন এবং তা অব্যাহত রেখেছেন।
বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে নবীনগর হাইস্কুল মাঠে ৩১ দফা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত জনসভায় মনোনয়ন বঞ্চিত ৭ প্রার্থী একই মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি, এই সাতজনের যেকোন একজনকে মনোনয়ন দিতে হবে। “কোন অযোগ্য নেতা-কর্মীর পাশে ছিল না এমন প্রার্থী আমরা চাই না।”
চারভাগে বিভক্ত বিএনপির একটি গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি মনোনীত এম. এ. মান্নান। অপর গ্রুপে রয়েছেন মনোনয়ন বঞ্চিত জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক নাজমুল হোসেন তাপস। তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে মনোনয়ন পেতে তিনি আশাবাদী হয়ে লড়ছেন। তার বাবা প্রয়াত কাজী মো. আনোয়ার হোসেন চারবার সাংসদ নির্বাচিত ছিলেন এই আসন থেকে। তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা এবং এর আগেও এ আসনে নির্বাচন করে পরিচিতি লাভ করেছেন।
কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তকদির হোসেন মোহাম্মদ জসিম বলেন, “এ আসনে প্রকৃত নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়নি। ধানের শীষ হৃদয়ে লালন করা আমাদের প্রতীক। আমরা ধানের শীষকে ভালোবাসি। সুদীর্ঘ সময় ধরে দলের কাণ্ডারি হয়ে কাজ করছি। যোগ্য প্রার্থী পেলে এই সিটটি তারেক রহমানকে উপহার দিতে চাই। তবে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি একেবারেই যোগ্য নন, সুখ-দুঃখে নেতা-কর্মীদের পাশে ছিলেন না। তাকে পরিবর্তন করে অন্য যেকেউ মনোনয়ন পেলে আমরা তাকেই জয়যুক্ত করব ইনশাআল্লাহ। শুনেছি আগামী ২২ তারিখ ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে সভা হবে; আমরা তা প্রতিহত করব। ধানের শীষ প্রতীক সবার জন্য নয়।”
অপর গ্রুপের নেতাদের একজন, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দিন ভূঁইয়া শিশিরও একই মন্তব্য করেন। কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক কেএম মামুন অর রশিদ এবং কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য সাইদুল হক সাইদকে ফোন করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই চার নেতা সহ মঞ্চে থাকা সাত নেতার মধ্যে ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রাজিব আহসান চৌধুরী পাপ্পু। মনোনয়ন প্রত্যাশী অপর এক প্রার্থী মেজর জেনারেল কামরুজ্জামান (অব.) বলেন, “আমি কোনও বিভাজন বা বিচ্যুতির পক্ষে নই। বিএনপি হাইকমান্ড বিষয়টি জানে। দল যাকেই যোগ্য মনে করে, আমিও তাকেই চাই। তবে এ আসনে আমি আশাবাদী হিসেবে রয়েছি।” তিনি ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন না।
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান মঞ্জু, সাবেক মেয়র মাইনুদ্দিন মাইনু, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু সাঈদ, জেলা বিএনপির সদস্য হযরত আলীসহ ২১টি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড থেকে আগত নেতা-কর্মীরা।
বক্তারা বলেন, “অচিরেই আমাদের যোগ্য ও পছন্দের প্রার্থীকে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হোক। আমরা সেই দিনের অপেক্ষায় আছি। চাই, দলীয় হাইকমান্ড মনোনয়ন পরিবর্তন করে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মনের ইচ্ছা পূরণ করে প্রার্থীতা চূড়ান্ত ঘোষণা করুক।”
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক নেতা-কর্মী জানান, “অচিরেই প্রার্থী পরিবর্তন না হলে এবং যোগ্য নেতৃত্বে প্রার্থী না দিলে আসনটি নানাবিধ কারণে হাতছাড়া হয়ে যেতে পারে।”
এদিকে, আগামী ২২ তারিখ শনিবার একই স্থানে বর্তমান প্রার্থী এডভোকেট এম. এ. মান্নান এক জনসভার ডাক দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে তার বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি ব্যস্ত থাকার কারণে ফোন কেটে দেন। উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিএনপি নেতা মফিজুর রহমান মুকুলের উপর গুলি বর্ষণের ঘটনা, নবীনগরের বিভিন্ন জায়গা থেকে অস্ত্র উদ্ধার এবং শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মাঝে পাল্টাপাল্টি জনসভার কারণে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।