শিল্পোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় টেকসই ও বিনিয়োগ-সহায়ক জ্বালানি কাঠামো অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন জ¦ালানি বিশেষজ্ঞ ও শিল্পোদ্যোক্তারা। তারা বলেন, বছরের পর বছর অবকাঠামো খাতে বিপুল বিনিয়োগ হওয়া সত্ত্বেও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান চাহিদা, উচ্চ উৎপাদন ব্যয় এবং নীতিগত অসংগতির কারণে বিনিয়োগকারীদের আস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গতকাল বুধবার ওয়েস্টিন ঢাকায় পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ ও ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত টেকসই বিদ্যুৎ খাত শীর্ষক এক নীতি-সংলাপে এ মত উঠে আসে। তারা সতর্ক করে বলেন, দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার ও বেসরকারি খাতের বেশি সম্পৃক্ততা ছাড়া আগামী দশকের মধ্যেই বাংলাদেশ বড় ধরনের জ্বালানি সংকটে পড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মহাদী আমিন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি আবদুল আউয়াল মিন্টু, জিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান বাবু, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ, এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট কামরান টি রহমান, ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মলা, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের চিফ রিস্ক অফিসার ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইনামুল হক, বিডার মহাপরিচালক মো. আরিফুল হক, বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক আহমেদ জুবায়ের মাহমুদ এবং কনফিডেন্স পাওয়ার রংপুর লিমিটেডের ভাইস চেয়ারম্যান ইমরান করিম প্রমুখ।
মহাদী আমিন বলেন, বিপুল বিনিয়োগ সত্ত্বেও বহু বছর ধরে শিল্পোন্নয়ন জ্বালানি, গ্যাস ও এমনকি পানির ঘাটতিতে ভুগছে। এ সময় তিনি অতীতের জ্বালানি প্রকল্পে দুর্নীতি ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির কঠোর সমালোচনা করেন।
মোবারক হোসেন অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ খাতে উন্নয়নের নামে অনিয়ম করেছে।
তিনি দাবি করেন, তার দল ক্ষমতায় এলে এ খাতের উন্নয়নে বিশেষজ্ঞদের দক্ষতা যথাযথভাবে ব্যবহার করবে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বিশ্বের অনেক জায়গার তুলনায় বাংলাদেশে সম্পদ সৃষ্টি ব্যবসায়িক সাফল্যে যথাযথ প্রতিফলন পায় না। তার মতে, শক্তিশালী অর্থনীতি ভালো রাজনীতিরও পূর্বশর্ত, আর জ্বালানি খাত অর্থনৈতিক উন্নয়নের ভিত্তি হওয়ায় এটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। এ সময় তিনি ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে টেকসই জ্বালানি খাত নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট বলেন, বিদ্যুতের ট্যারিফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি উৎপাদন ব্যয় ও ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতাকে সরাসরি প্রভাবিত করে।