চলছে বার্ষিক পরীক্ষা, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কারাগারে

কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমরান হোসেন মিয়ার বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। তবে ১৫ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসতে পারেনি। সহপাঠীরা যখন কলম হাতে পরীক্ষার হলে বসেছে, তখন সে রয়েছে কুমিল্লার জেলহাজতে। নিষিদ্ধ সংগঠন ‘ছাত্রলীগ কর্মী’ সন্দেহে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হওয়া একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ইমরানের পরিবারের দাবি, পুলিশের অভিযোগ ভিত্তিহীন, সে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত নয়। তবে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন ছাত্রলীগ কর্মীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বিদ্যালয় সূত্র জানিয়েছে, অষ্টম শ্রেণির নিয়মিত শিক্ষার্থী ইমরান। সে ঢালুয়া ইউপির চিওড়া গ্রামের ইসহাক মিয়া ছেলে।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আগামী পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে গত ১১ নভেম্বর স্কুলের বেতন ও সেশন ফি বাবদ ১ হাজার ৫০০ টাকা জমা দেয় ইমরান। এরপরই ১৭ নভেম্বর রাতে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ইমরান (১৫) নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কর্মী। সে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার রায়রে প্রতিবাদে ঢালুয়া এলাকায় ঝটিকা মিলে অংশগ্রহণ করে। পাশাপাশি সরকারবিরোধী সেøাগান, সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।

এ বিষয়ে ইমরানের বাবা ইসহাক মিয়া বলেন, আমার ছেলে নিতান্তই শিশু। সে রাজনীতি বোঝে না। এলাকার মানুষের কাছে জানতে পারেন, কোথাও কোনো সংগঠনে তার সম্পৃক্ততা নেই।

পরীক্ষার ঠিক আগে এমন মিথ্যা মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে তার জীবন নষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে।

একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রকে সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তাদের প্রশ্ন, ‘অষ্টম শ্রেণির ছাত্র কীভাবে নাশকতার মতো গুরুতর অভিযোগে জড়িত হতে পারে? আইনজীবীরা বলছেন, শিশু আইন ২০১৩ অনুযায়ী ১৮ বছরের নিচে সবাই শিশু হিসেবে গণ্য। এমন ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার, হাজত বা আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়ায় বিশেষ সুরক্ষা প্রযোজ্য। ইমরানকে সাধারণ বন্দির মতো আদালতে পাঠানো হয়েছে, যা আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি একে ফজলুল হক বলেন, সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সে পরীক্ষার্থী কি না, তা আমাদের জানা নেই। পরীক্ষার্থী হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।