নরসিংদীতে তীব্র ভূমিকম্পে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে সারা দেশের ন্যায় নরসিংদীতে ভূমিকম্প অনুভব হয়। এ সময় পুরো জেলা কেঁপে ওঠে। বিশেষ করে ঘোড়াশাল ও নরসিংদী শহর। এ সময় মানুষ আতঙ্কে নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছোটাছুটি করতে থাকেন।
নরসিংদীর গাবতলী এলাকায় ছয়তলা নির্মাণাধীন একটি ভবনের দেয়াল ধসে একতলা ভবনের ওপর পড়লে বাড়ির মালিক দেলোয়ার, ছেলে ওমর ও মেয়ে তাসফিয়া আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাবা ছেলেকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এদিকে ঘড়াশাল এলাকায় ৬টি বাড়ি ও এস এ প্লাজা নামে একটি ৭তলা বিশিষ্ট শপিংমলে ফাটল ধরে। এ ছাড়া ঘোড়াশাল বাজার এলাকার বিভিন্ন ভবনের ছাদ থেকে দেয়ালের ইট পরে ব্যাপক ক্ষতিসাধিত হয়।
ঘোড়াশাল বাজারের জুতার দোকানী আলম মিয়া বলেন, আমার দোকানে জুতাসহ বিভিন্ন ধরনের মালামাল ছিল। ভূমিকম্প শুরু হলে সব কিছু দোকানের পড়ে গিয়ে আসবাবপত্রের ভেঙে গেছে।
বাজারের মুদি দোকানদার আসলাম মিয়া বলেন, আমার মুদি দোকানের কাচের মালামালগুলো পড়ে ভেঙে গেছে। আমি প্রথমে ভূমিকম্প বুঝতে পারিনি। মনে হয়েছে কেউ হামলা করেছে। পরক্ষণেই বুঝতে পেরেছি, এটি হামলা নয়, এটি ভূমিকম্প।
ঘোড়াশাল ঈদগাহ রোডের মারকাসুল সুন্নাহ তাহফিজুল কুরআন সুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক মুফতি সালা উদ্দিন আনসারী বলেন, আমাদের ৬ তলা ভবনের ৪-৫ জায়গায় ফাটল দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ভয় পেয়েছে, আতঙ্কিত ছিল।
ভবনের মালিক আমানউল্লাহ বলেন, ভূমিকম্পে আমার ভবনের কয়েক জায়গায় ফাটল ধরেছে। ভবনের সব দোকানপাট বন্ধ করে দিয়েছি। কেউ ভয়ে দোকান খুলছে না।
এদিকে ভূমিকম্পে ঘোড়াশাল তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সাবস্টেশনের একটি ট্রান্সফরমায় আগুন লেগে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অপর ট্রান্সফরমারগুলোর অধিকাংশ সংযোগ ভেঙে পড়ে। পলাশ ফায়ার এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পলাশ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আব্দুস সহিদ জানান, আগুনের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী এনামুল হককে বার বার কল দেওয়ার পরও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অপরদিকে ঘোড়াশালসহ পলাশে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করার চেস্টা করছে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ।
নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গুলশানা কবির বলেন, ভূমিকম্পে আহত হয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। এখনও হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন আহতরা।
নরসিংদী পুলিশ সুপার মেনহাজুল আলম দুপুরে গাবতলী এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি বলেন, ভূমিকম্পে জেলায় অর্ধশতাধিক আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। যেকোনও দুর্যোগে জেলা পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে। পুলিশ তাদের নিরাপত্তায় সচেষ্ট রয়েছে।