শ্রীপুরে বনের মধ্যে ঘোড়া জবাই, মূল হোতা পলাতক

গাজীপুরের শ্রীপুরে মধ্যরাতে গহীন বনের ভেতর ঘোড়া জবাই করার অভিযোগে একজনকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছে। রাতে লোকজন শব্দ পেয়ে বনের ভিতরে গিয়ে গরু চোর সন্দেহে ওই ব্যক্তিকে আটক করা করে। পরে ঘোড়া জবাই করার বিষয় স্বীকার করলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। তবে ঘোড়া জবাই আর বিক্রির মূল হোতা পালিয়ে গেছে।

এ সময় দুটি জবাই কৃত ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তি নিজেকে কসাই বলে দাবি করেন। তবে সবাই চোর সন্দেহ করলেও পরে কসাই এটি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের উত্তর বেলতলী গ্রামের খন্দকার বাড়ির পাশের বনে এ ঘোড়া জবাইয়ের এ ঘটনা ঘটে। 

খবরর পেয়ে সকালে লোকজন ভীর করেন ওই ব্যক্তিকে দেখতে। এ সময় জবাই করা ঘোড়ার মাংসও দেখতে আসেন লোকজন।

আটককৃত কসাইয়ের নাম রুবেল মিয়া (৪৫)। তিনি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা শ্যালবরশ গ্রামের বাসিন্দা। রুবেল মিয়া দীর্ঘদিন ধরেই জৈনা বাজার এলাকার ভাড়া থেকে কসাইয়ের কাজ করেন। এটাই তার পেশা। তবে কার নির্দেশে ঘোড়া জবাই করতে ভাড়ায় আসে তা স্বীকার করেনি রুবেল মিয়া।
 
স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বেলতলি এলাকার খন্দকার বাড়ির পাশের বনের ভেতর একটি জমির চার দেয়ালের প্রাচীর রয়েছে। সেখানে এতো আলো চোখে পড়ছিল। এলাকায় গরু চুরি বেড়ে যাওয়ার লোকজন মনে করেছে গরু চোর সেখানে অবস্থান করছে। এ সময় গরুচোর সন্দেহে আশপাশের লোকজন হইচই শুরু করে। এক পর্যায়ে বনের ভেতর থেকে একটি পিক-আপ গাড়ি বের হয়ে দ্রুত চলে যায়। কয়েকজন লোকও পালিয়ে যায়। এরপর লোকজন ওই বাউন্ডারির ভিতরে গিয়ে প্রচুর পরিমাণ মাংস দেখতে পায়। পাশেই ছিল দুটি ঘোড়ার কাটা মাথা। এ সময় বনের ভিতরে খোঁজ করলে একজনকে চোখে পড়ে। পরে লোকজন তাকে আটক করলে সে সাই বলে দাবি করেন। এ সময় চাপ দিলে দুটি ঘোড়া জবাইয়ের কথা স্বীকার করে রুবেল। এর পর তাকে আটক করে পুলিশে খবর দিয়ে পুলিশ তাকে আটক করে নিয়ে যায়।
  
শ্রীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহম্মদ আবদুল বারিক জানান, খবর পেয়ে সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় ঘোড়ার মাংস জব্দ করা হয়। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।