কুমিল্লায় অচেতন ৮০ নারী মাগুরায় অসুস্থ শত কর্মী

ভূমিকম্পের ভয়ে ও আতঙ্কে মাগুরায় একটি গার্মেন্টসের প্রায় ১০০ নারী ও পুরুষকর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হলে শ্রীপুর উপজেলার আমতৈল গ্রামে অবস্থিত স্টাইলস্মিথ স্যান অ্যাপারেলস লিমিটেড গার্মেন্টসে এ ঘটনা ঘটে।

গার্মেন্টসকর্মী আল আমীন জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ভূমিকম্প অনুভূত হলে গার্মেন্টস কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় গার্মেন্টসের দ্বিতীয় তলায় কর্মরত কর্মীরা দ্রুত ভবন থেকে নেমে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। এ সময় অনেক নারীকর্মীর মাথা ঘোরা ও বমি শুরু হলে তারা অসুস্থ হয়ে পড়েন। অসুস্থদের দ্রুত শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। অসুস্থদের মধ্যে ২০ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অনেককে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ২৮ জন অসুস্থ কর্মীকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাসমুস সাকিব জানান, ভূমিকম্পের আতঙ্ক সবার মধ্যে ছড়িয়ে গিয়ে ম্যাচ হিস্টিরিয়া হয়েছে। তবে কারও শরীরে কাটাছেঁড়া, রক্তক্ষরণ বা শরীরে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই।

মাগুরা শ্রীপুর উপজেলা ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা সামসুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয়রা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অসুস্থ কর্মীদের উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও মাগুরা সদর হাসপতালে নিয়ে যান। তবে ভূমিকম্পে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।’

মাগুরা ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘অসুস্থ ব্যক্তিরা ইতিমধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছে। তবুও তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।’

এদিকে ভূমিকম্পের আতঙ্কে কুমিল্লা এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোনে (ইপিজেড) কর্মরত অন্তত ৮০ নারী শ্রমিক অজ্ঞান হয়ে পড়েছেন। হুড়োহুড়ি করে নিচে নেমে আসার সময় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। গতকাল দুপুরে কুমিল্লা ইপিজেড পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার পর ইপিজেডের দুই প্রতিষ্ঠানের নারী শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছোটাছুটি করতে গিয়ে অনেকে প্যানিক অ্যাটাকের শিকার হন। তবে গুরুতর কেউ আহত হননি। তিনি বলেন, অজ্ঞান হওয়া ৫০ জন শ্রমিক তাদের ইপিজেডের ভেতর বেপজা মেডিকেল সেন্টারে (হাসপাতালে) চিকিৎসা নিয়েছেন। আর ৩০ জনকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তানভীর আহমেদ বলেন, ‘হাসপাতালে অন্তত ৩০ নারীকর্মীকে আমরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছি। তাদের বেশিরভাগই আতঙ্ক ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তবে এখন তারা সুস্থ আছেন।’