নিউমুরিং টার্মিনাল

শুনানির আগে চুক্তির কার্যক্রম নয় : হাইকোর্ট

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সম্পর্কিত প্রক্রিয়া চালানো যাবে না বলে আদেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। গত বৃহস্পতিবার মৌখিকভাবে এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে আশ্বস্ত করেছে, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি-সম্পর্কিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ বিষয়ে দেওয়া রুলের ওপর শুনানি হয়।

হাইকোর্ট পরবর্তী শুনানির জন্য ২৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেছে। নিউমুরিং কনটেইনার পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টের দেওয়া রুলের ওপর গত ১৯ নভেম্বর শুনানি শুরু হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবারও শুনানি হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও আহসানুল করিম।

অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এর আগে ১৩ নভেম্বর রাষ্ট্রপক্ষ আদালতকে আশ্বস্ত করেছিল যে, রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া চুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে না। কিন্তু ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি এ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে মূল্যায়ন কমিটির প্রস্তাব করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আশ্বস্ত করার পরেও এ ধরনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হাইকোর্টের জন্য অস্বস্তিকর। তাই হাইকোর্ট বলেছে, মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত চুক্তির প্রক্রিয়া আর এগোবে না, এটাই আদালতের সিদ্ধান্ত।’

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনা করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বৈধতা নিয়ে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন এ রিট আবেদনটি করেন। গত ৩০ জুলাই চুক্তির বৈধতা নিয়ে রুল দেয় হাইকোর্ট।

রুলে দেশি অপারেটরদের অনুমতি না দিয়ে পিপিপি আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট।