ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, জাতীয় রোগী কল্যাণ সোসাইটি
সোরিয়াসিস একেবারেই সংক্রামক নয়। এটি এমন এক দীর্ঘমেয়াদি ত্বকজনিত সমস্যা, যা শরীরের ভেতরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট হলে দেখা দেয়। সোরিয়াসিস এমন এক চর্মরোগ, যেখানে ত্বকের কোষ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক দ্রুত বেড়ে যায়। ফলে ত্বকের ওপর জমে যায় পুরু, লালচে দাগ আর রুপালি আঁশ। এগুলো দেখা দিতে পারে কনুই, হাঁটু, মাথার ত্বক বা হাত-পায়ে। কখনো নখেও দেখা দেয় পরিবর্তন গর্ত, রঙের দাগ বা ভঙ্গুরতা। এই রোগ কাউকে স্পর্শে ছড়ায় না। রোগটি একবার হলে তা পুরোপুরি সেরে যায় না, তবে নিয়মিত যত্নে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
কেন হয়, কার ঝুঁকি বেশি
সোরিয়াসিসের পেছনে অনেক কারণ একসঙ্গে কাজ করে
পরিবারে কারও থাকলে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
শরীরের ইমিউন সিস্টেম বিভ্রান্ত হয়ে ত্বককোষ আক্রমণ করে।
ছোট আঘাত, সংক্রমণ বা মানসিক চাপও রোগ বাড়ে।
শীতল ও শুষ্ক আবহাওয়া, ধূমপান, অ্যালকোহল এবং ঘুমের অভাবও ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
লক্ষণ
ত্বকে লালচে, খসখসে দাগ হয়। রুপালি আঁশ বা চামড়া ওঠা। চুলকানি, জ্বালাপোড়া, কখনো ব্যথা হয়। নখ দুর্বল বা রঙ বদলায়। কখনো জয়েন্টে ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দেয়।
ত্বকের যত্নের সহজ নিয়ম
ত্বক কোমল রাখা। গোসলের পর হালকা ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা । গরম পানি নয়, হালকা গরম বা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করুন। চুলকাবেন না, বরং ঠান্ডা সেঁক বা অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার। সকালে কিছু সময় সূর্যের আলোয় থাকুন ভিটামিন ডি ত্বকের জন্য উপকারী। ঢিলেঢালা, বাতাস চলাচল হয় এমন পোশাক পরুন।
খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্ব
চিনিযুক্ত খাবার, অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, ফাস্টফুড, অ্যালকোহল ও ধূমপান বাদ দিন।
যা খাবেন
ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ যেমন সামন, টুনা, রঙিন ফল ও সবজি, বাদাম, ডাল, অলিভ অয়েল ও পর্যাপ্ত পানি। খাবারে যত বেশি প্রাকৃতিক উপাদান থাকবে, ত্বক ততটাই স্বস্তি পাবেন।
মন ভালো রাখুন
সোরিয়াসিস কেবল ত্বকের নয়, মনেরও ব্যাপার। ত্বকে দাগ দেখা দিলে অনেকে লজ্জা পান, বাইরে যেতে চান না, আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু এটা লুকানোর কিছু নয়। সোরিয়াসিস হলে যতœ, সুষম খাদ্য, মানসিক প্রশান্তি ও সচেতনতা দিয়ে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।