ব্যবসা বৃদ্ধির জন্য বাণিজ্য সংগঠনের যোগাযোগ জরুরি

কানাডা-বাংলাদেশের ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার করতে হলে দুদেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর যোগাযোগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং। গতকাল রবিবার ডিসিসিআইয়ের গুলশান সেন্টারে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনায় তিনি এ পরামর্শ দেন। বৈঠকে ঢাকা চেম্বারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং কানাডার আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ডেপুটি মিনিস্টার (ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড) ও চিফ ট্রেড কমিশনার সারা উইলশো উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় দুদেশের ইতিবাচক দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য প্রসঙ্গে ডিসিসিআইয়ের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বলেন, ২০২৪ অর্থবছরে দেশ দুটোর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২ দশমিক ২২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যেখানে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৯০১ দশমিক শূন্য ৯ মিলিয়ন এবং ১ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

তিনি উল্লেখ করেন, কানাডা বাংলাদেশের ২০তম বৃহত্তম বৈদেশিক বিনিয়োগকারী দেশ এবং এ দেশের বর্তমানে কানাডার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৩২ দশমিক ৮৩ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সবুজ প্রযুক্তি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, আর্থিক সেবা, তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অবকাঠামো, স্মার্ট লজিস্টিকস পরিষেবা এবং কোল্ডচেইন ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি খাতে কানাডীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হস্তশিল্প, সাইকেল, তৈরি পোশাক, সিরামিকস, ফার্নিচার, ওষুধ, প্রক্রিয়াজাত ও হিমায়িত খাদ্যপণ্য, সফটওয়্যার এবং বিপিও সেবা প্রভৃতি পণ্য বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি হারে আমদানির আহ্বান জানান রাজিব এইচ চৌধুরী।

বৈঠকে সারা উইলশো বলেন, কানাডায় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানই এসএমই। কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭৫ ভাগ এবং কানাডা থেকে অধিকাংশ এফডিআই যুক্তরাষ্ট্রমুখী, একইভাবে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে সবচেয়ে বেশি এফডিআই পেয়ে থাকে, তবে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে রপ্তানি, রপ্তানির বাজার ও পণ্যের বৈচিত্র্য আনাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, কানাডা শিক্ষা খাতে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে এবং বাংলাদেশ থেকে বহু শিক্ষার্থী কানাডায় পড়াশোনা করে। শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে উভয় দেশেরই একসঙ্গে কাজ করার সমান সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, অটোমোটিভ শিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতেও কানাডার প্রশংসনীয় সক্ষমতা রয়েছে। এ ছাড়া কানাডা বাংলাদেশকে বৈশ্বিকভাবে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যবস্থার উন্নয়নে সহায়তা করতে চায়। বর্তমানে কানাডার অটোমোটিভ খাত নতুন বাজার খুঁজছে, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

কানাডার হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করতে হলে দুদেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর যোগাযোগ বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতই এই দেশের প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি এবং কানাডা বাংলাদেশে বাণিজ্য বাড়াতে অত্যন্ত আগ্রহী। আমরা দক্ষতা উন্নয়ন, কারিগরি সহায়তা, ভোকেশনাল ট্রেনিং, নার্সিং, অ্যাগ্রো-টেক শিল্প, ইজ অব ডুয়িং বিজনেস প্রভৃতি খাতে বাংলাদেশে কাজ করতে চাই।

এ সময় ডিসিসিআই সহসভাপতি মো. সালেম সোলায়মান, পরিচালনা পর্ষদের সদস্য এবং কানাডার হাইকমিশনের কাউন্সিলর ও সিনিয়র ট্রেড কমিশনার ডেবরা বয়েস প্রমুখ বৈঠকে যোগ দেন।