ক্ষমতা ও আসনের জন্য কারও সঙ্গে সমঝোতা হবে না

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী নির্বাচনে আমরা এককভাবে ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার চেষ্টা করছি। কোনো ধরনের ক্ষমতার জন্য, আসনের জন্য, কারও সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা হবে না। যদি একটি আসনও না পাই, এনসিপি তার আদর্শ, নীতি ও লক্ষ্যে অটুট থাকবে।’

গতকাল রবিবার রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের পর এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার ও মতবিনিময় করেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। গতকাল পর্যন্ত এনসিপির হয়ে নির্বাচন করতে ১ হাজার ৮৪ জন মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন।

চট্টগ্রামে এক জামায়াত নেতার বক্তব্যের সূত্র ধরে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে যে প্রশাসনকে কীভাবে দখল করতে হবে, প্রশাসনকে কীভাবে হাতে রাখতে হবে। নির্বাচনের জন্য যে ধরনের “লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড” থাকা দরকার, সেটি দেখা যাচ্ছে না।’ 

জুলাই সনদ নিয়ে দরকষাকষির জের ধরে যে রাজনৈতিক দলগুলো এখন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে, তারা একসময় ‘বন্ধু ছিল’ মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘আমরা আগে থেকেই বলে আসছিলাম যে বাংলাদেশের যে নির্বাচনী সংস্কৃতি, যেখানে জবরদখল, প্রশাসনের দখল এবং টাকার ব্যবহার, মাসল পাওয়ারের ব্যবহার ইত্যাদি নির্বাচনে আমরা সবসময় দেখে এসেছি। শুনে এসেছি এর আগের সময়গুলোতে এবং এর আগের ফ্যাসিবাদী সময়ে তো মানুষ ভোট দিতেও যেতে পারেনি। ফলে এবারের নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে। অনেক তরুণ এবং স্বপ্নবাজ দেশপ্রেমিক মানুষ সংসদে আসবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘নিরপেক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের এবং সরকার ও প্রশাসনের যে শক্ত ও স্বচ্ছ অবস্থায় থাকা প্রয়োজন, সেটি আমাদের কাছে মনে হচ্ছে না।’

সংবাদ সম্মেলনে দলের মুখ্য সমন্বয়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, প্রচারণায় গেলে এনসিপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হুমকি-ধমকি পাচ্ছেন। এমনকি পরিবারের সদস্যদেরও মারধরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একটি রাজনৈতিক দল প্রশাসনে নিজেদের লোক রাখার কথা বলছে। এখনো প্রশাসনে আওয়ামী লীগ সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা বহাল রয়েছেন উল্লেখ করে তিনি তাদের সরানোর দাবি জানান।’

প্রার্থী মনোনয়ন প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, ‘আমরা সৎ প্রার্থী দিচ্ছি, এটাই আমাদের চমক। এটাই বাংলাদেশের ৫৩ বছরের রাজনীতির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চমক।’ গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিদের সংসদে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মনোনয়ন নিলেন ১ হাজার ৮৪ জন : এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এনসিপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন ১ হাজার ৮৪ জন। তাদের মধ্য থেকে বাছাই করে যোগ্য প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করা হবে। ‘দেশ বদলাবে নতুন নেতৃত্বে’ এই স্লোগান ধারণ করে গতকাল রবিবার থেকেই শুরু হয়েছে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার। এতে সারা দেশের ১০টি সাংগঠনিক বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নিচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতারা। এর আগে সকালে মতবিনিময় সভা ও হোয়াইট বোর্ডে স্বাক্ষর কার্যক্রম উদ্বোধন করেন দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। এতে মনোনয়নপ্রত্যাশী, সাংবাদিক ও যেকোনো দর্শনার্থী নিজেদের মতামত জানাতে পারবেন বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়। সাক্ষাৎকার গতকাল সকাল ৯টায় শুরু হয়েছে, চলবে আজ সোমবার রাত ৯টা পর্যন্ত।

এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটি সূত্র জানায়, মতবিনিময়ের মাধ্যমে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের যোগ্যতা, দক্ষতা, রাজনৈতিক দর্শন, সাংগঠনিক সক্ষমতা এবং জনগণের সঙ্গে তাদের সংযোগ এসব বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের মূল্যায়ন করা হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই চূড়ান্ত প্রার্থী নির্বাচনের প্রাথমিক ধাপ সম্পন্ন করা হবে। দলটির আশা স্বচ্ছ, উন্মুক্ত ও নীতিনিষ্ঠ নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জনগণের স্বার্থরক্ষায় সক্ষম যোগ্য নেতৃত্ব নির্বাচন করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে মনোনয়ন বোর্ডে থাকা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফ মোস্তাফিজ বলেন, ‘১০টি সাংগঠনিক বিভাগের জন্য আলাদা মনোনয়ন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এতে অনেক যোগ্য প্রার্থী এসেছেন। আশা করি, এর মাধ্যমে আমরা কাক্সিক্ষত প্রার্থী বেছে নিতে পারব।’