বাণিজ্য সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ শেরিং তোবগের

বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আঞ্চলিক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সফররত ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। গতকাল সফরের দ্বিতীয় দিন দুপুরে তিনি রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এরপর দিপক্ষীয় বৈঠকে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের শিল্প- বাণিজ্যিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে। গত শনিবার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ঢাকার হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরে পৌঁছান ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাকে বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

গতকাল দুপুরে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গভবন এলে রাষ্ট্রপ্রধান তাকে স্বাগত জানান। পরে বঙ্গভবনের ক্রেডেনশিয়াল হলে তারা এক আনুষ্ঠানিক আলোচনায় বসেন। ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, ভবিষ্যতে উভয় দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হবে। তিনি আশা করেন, আগামী দিনে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ব্যবসা, বাণিজ্য, জলবিদ্যুৎ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। এ সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী তার দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজে আসন বৃদ্ধি এবং প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন সংরক্ষণ করায় বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। ভুটানের প্রধানমন্ত্রী আশা করেন, আগামী দিনে উভয় দেশের সম্পর্ক আরও বৃদ্ধির পাবে। বঙ্গভবনে সংক্ষিপ্ত বৈঠক হওয়ার পর শেরিং তোবগেকে গার্ড অব অনার দেয় সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল।

এদিকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে আঞ্চলিক যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। এ সময় তিনি কুড়িগ্রাম-গেলেফু করিডোরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও ভুটানের আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করতে এই করিডোরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে জি-টু-জি অংশীদারত্বে নির্মাণাধীন কুড়িগ্রাম স্পেশাল ইকোনমিক জোন ভুটানের আসন্ন বিশেষ প্রশাসনিক অঞ্চল ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’র সঙ্গে যুক্ত হয়ে এক নতুন আঞ্চলিক অর্থনৈতিক প্রবাহ তৈরি করবে। এর মাধ্যমে শিল্প-বাণিজ্যিক সহযোগিতা নতুন মাত্রা পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন কুড়িগ্রাম ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘কুড়িগ্রাম ও গেলেফু আমাদের যৌথ অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের পরিপূরক ইঞ্জিন হয়ে উঠতে পারে।’ তিনি বলেন, বাংলাদেশের বৃহৎ বাজার, দক্ষ মানবসম্পদ ও বৈশ্বিক সংযোগের শক্তি আর ভুটানের টেকসই উন্নয়ন, উদ্ভাবনী দৃষ্টি ও মানবিক মূল্যবোধ এই দুই শক্তির সমন্বয় সীমান্ত অতিক্রম করে নতুন প্রজন্মের অর্থনৈতিক সহযোগিতার মডেল গড়ে তুলবে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মির্জা ফখরুলের সাক্ষাৎ  : এদিকে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের সঙ্গে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গতকাল রাত ৮টার দিকে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল শেরিং তোবগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মইন খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন। ব্যবসা, বাণিজ্য, জ্বালানিসহ দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলাপ হয়েছে। ভুটান এদেশে একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন আশা করে এবং যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক সেই সরকারের সঙ্গে কাজ করবে ভুটান। সাক্ষাতের সময় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছাস্বরূপ খালেদা জিয়াকে দেওয়ার জন্য একটি ফুলের তোড়া বিএনপি নেতাদের হাতে তুলে দেন।