সাংবাদিকদের অর্থ উপদেষ্টা

চ্যালেঞ্জ থাকলেও একই দিনে গণভোট হওয়া উচিত

চ্যালেঞ্জ থাকলেও আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট একই দিনে আয়োজন করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ মত প্রকাশ করেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানিয়েছেন, নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এ প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমার মতে, চ্যালেঞ্জ থাকলেও এটা গ্রহণ করতে হবে। একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট করতেই হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। প্রধান উপদেষ্টা ইতিমধ্যে একই দিনে আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। কারণ দুদিনে করলে পুরো প্রক্রিয়া দুবার করতে হবে। রিটার্নিং অফিসারদের মোবিলাইজ করা, প্রিসাইডিং অফিসার-পোলিং অফিসারদের ব্যবস্থা করা এসব কোনো সহজ কাজ নয়। ব্যাংকের জুনিয়র কর্মকর্তা, স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের দুদিনের জন্য ডিউটিতে আনা অত্যন্ত কঠিন। তাই একদিনেই করা উচিত। পৃথিবীর অনেক দেশেই এভাবে একসঙ্গে নির্বাচন ও গণভোট হয়ে থাকে। লজিস্টিক্যালি এটাই সবচেয়ে সহজ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার উপায়। অসুবিধার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখি না।’

নির্বাচন এবং গণভোটের বাজেট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট সংশোধনের কাজ আগামী ডিসেম্বর মাসেই সম্পন্ন করা হবে। ডিসেম্বরে সংশোধন শেষ করে জানুয়ারিতে সংশোধিত বাজেট পরবর্তী সরকারের জন্য প্রস্তুত রাখা হবে। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচন কমিশন সাধারণত নতুন করে বড় অঙ্কের অর্থ চায় না। জরুরি ও নিয়মিত খরচ যা হবে, তা তাদের নিজস্ব তহবিল ও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে মেটানো যাবে। তাই নির্বাচনের খরচ নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’

চলতি বাজেটে নির্বাচনের জন্য তিন হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। গণভোট যুক্ত হওয়ায় খরচ বাড়বে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখনই বলা যাচ্ছে না খরচ বাড়বে নাকি কমবে। গণভোটের বিষয়টি আগের প্রাক্কলনে ছিল না। এ ছাড়া ২৫ নভেম্বর থেকে বিদেশি দূতাবাসগুলোতে প্রবাসী ভোটার তালিকাভুক্তি শুরু হবে। সেখানে কর্মকর্তাদের ওভারটাইমসহ অতিরিক্ত খরচ যুক্ত হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে সঠিক হিসাব দেওয়া সম্ভব নয়।’

অর্থ উপদেষ্টা জানান, শুধু জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিয়ে বাজারদর নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন। এর সমাধানে দরকার একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সরকার। তিনি বলেন, ‘চালের দাম শুধু সরবরাহের ওপর নির্ভর করে না। পরিবেশক চ্যানেল, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের ভূমিকা অনেক বড়। স্থানীয় প্রশাসন যতই চেষ্টা করুক, ব্যবসায়ীদের একটা দায়িত্বশীল মনোভাব না থাকলে সমস্যা থেকেই যায়। পৃথিবীর অনেক দেশে দ্রব্যমূল্য এভাবে হঠাৎ বাড়ে না। বাড়লেও যৌক্তিক কারণ থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে প্রচুর চাল মজুদ থাকার পরও হঠাৎ কোথাও কোথাও মিলেমিশে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘এ ধরনের সমস্যার সমাধান শুধু প্রশাসন দিয়ে হয় না। এর জন্য দরকার রাজনৈতিক সরকার। তাদের কাছে মোর‌্যাল অথরিটি থাকে, কর্মী-সমর্থক থাকে, কথা বলার ভয়েস থাকে। কিন্তু বর্তমান প্রশাসন থেকে শুধু ডিসি-ইউএনও পাঠিয়ে এসব নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।’