কারখানা বন্ধের প্রতিবাদে সড়ক অবরোধ-বিক্ষোভ

গাজীপুর নগরীর কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় হঠাৎ করে অনির্দিষ্টকালের জন্য একটি পোশাক কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদ ও কারখানাটি খুলে দেওয়ার দাবিতে গতকাল মঙ্গলবার সকালে সড়ক অবরোধ এবং বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন ওই সড়কে চলাচলরত পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। এলাকাবাসী, কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নগরীর কোনাবাড়ী আমবাগ এলাকায় হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেড নামে একটি কারখানায় এ ঘটনা ঘটে।

গত সোমবার সন্ধ্যায় কর্তৃপক্ষ কারখানার মূল ফটকে কারখানা বন্ধের নোটিস সাঁটিয়ে দেয়। হানিওয়েল গার্মেন্টস লিমিটেডের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (অ্যাডমিন অ্যান্ড ফাইন্যান্স) স্বাক্ষরিত নোটিসে উল্লেখ করা হয়, গত সোমবার কারখানার শ্রমিকরা কিছু অযৌক্তিক দাবি উত্থাপন করে। এই লক্ষ্যে অবৈধভাবে কারখানায় সংঘবদ্ধ হয়ে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করেন। এ সময় শ্রমিকরা চরম বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি করেন। এতে কারখানার অভ্যন্তরে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। এ ছাড়া কারখানার নির্ধারিত রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার কারণে কোম্পানি বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কারখানা কর্তৃপক্ষ বারবার শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা উৎপাদন কার্যক্রম থেকে বিরত থাকেন। শ্রমিকদের এই আচরণ অবৈধ ধর্মঘটের শামিল। কারখানা কর্তৃপক্ষ কারখানার শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ১৩(১) ধারা মোতাবেক গতকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। ওই নোটিসে আরও উল্লেখ করা হয়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরে কারখানা চালু করার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে খোলার তারিখ নোটিসের মাধ্যমে অবহিত করা হবে। এ ছাড়া কারখানার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিরা এ আদেশের আওতামুক্ত থাকবেন বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়। গতকাল সকালে কাজে যোগদানের জন্য এসে কারখানার কারখানার মূল ফটকে বন্ধের নোটিস টানানো দেখতে পান শ্রমিকরা। কারখানা বন্ধের প্রতিবাদ ও কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে উত্তেজিত শ্রমিকরা ওই এলাকার মিতালি ক্লাব থেকে কোনাবাড়ী নতুনবাজার সড়কটি অবরোধ করেন। এতে পরিবহন শ্রমিক ও কারখানার শ্রমিকদের মধ্যে বাগবিত-া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের বুঝিয়ে শান্ত করলে ওই সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কোনাবাড়ী জোনের পরিদর্শক মো. মোর্শেদ জামান বলেন, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি। তবে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কারখানা এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।