অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ‘রাজনৈতিক সরকার যে সিদ্ধান্ত নিতে পারে, এ অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’ চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে রায়ের তারিখ ধার্যের পর তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা।
এ সময় তিনি নিউমুরিং কনটেইনার নিয়ে শুনানির বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন। গত সোমবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অনির্বাচিত অন্তর্র্বর্তী সরকারের বন্দর কিংবা এলডিসি থেকে উত্তরণের মতো বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নেই। তারেক রহমানের বক্তব্যের সূত্র ধরে রিটকারীর আইনজীবী গতকাল বলেছেন, রাজনৈতিক দল এসে নিউমুরিং কনটেইনার নিয়ে সিদ্ধান্ত নিক।
রিটকারী আইনজীবীর এমন মন্তব্যের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটা ওনাদের সাবমিশন। ওনারা বলেছেন। আমাদের কথা, যদি পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট (রাজনৈতিক সরকার) যে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, এই অন্তর্র্বর্তী সরকারও একই সিদ্ধান্ত নিতে পারে।’
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর হলো বাংলাদেশের অর্থনীতির লাইফলাইন। সেই লাইফলাইনে আমরা কত বেশি স্বচ্ছতা আনতে পারব, এটা একটা পাবলিক পলিসি। সেই পলিসি ধরেই সরকার এগোচ্ছে। সরকারের জনবিচ্ছিন্ন, জনবিরোধী কোনো এজেন্ডা নেই।’ শুনানিতে কী বলেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যা করেছি, সংবিধানের মধ্য থেকে, আইনের মধ্য থেকে ও পিপিপির মধ্য থেকে করেছি। প্রধানমন্ত্রী যে কাজগুলো করতে পারতেন, এই প্রধান উপদেষ্টা এবং এই ক্যাবিনেট (উপদেষ্টা পরিষদ) একই কাজ, ওনারা করতে পারেন, যা হচ্ছে সাংবিধানিক স্কিম। এটা বলতে গিয়ে সংবিধানের চতুর্থ শিডিউলের বিধান পড়ে শুনিয়েছি। নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পরের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেছি।’
অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পৃথিবীর ইতিহাসে রাষ্ট্র পরিচালনায় বিজয়ী শক্তি নির্ধারণ করে তার নেতা কে, তার সরকার কে, সে কীভাবে পরিচালিত হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত বাংলাদেশের বিজয়ী শক্তি নির্ধারণ করেছিল সংবিধান কেমন হবে, নেতা কে হবে, দেশ কীভাবে পরিচালিত হবে। ঠিক একইভাবে এ সময়ে এসে আবার নির্ধারিত হয়েছে, আমরা কীভাবে চলব। তারই ধারাবাহিকতায় এ সরকার পরিচালিত হচ্ছে। এখানে কোনো ব্যত্যয় নেই। কোনো সন্দেহ নেই। কোনো অস্পষ্টতা নেই, এটা শুনানিতে বলেছি।’
নিউমুরিং কনটেইনার নিয়ে চুক্তির বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একটি কোম্পানির সঙ্গে প্রাথমিকভাবে কথাবার্তা চলছে। এটা নিয়ে গোটা জাতির সামনে জনস্বার্থে মামলা করে বিভ্রান্তিমূলক একটি তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে। আমরা আদালতকে বলেছি, এই রিট কয়েকটি কারণে খারিজ হবে। এই ইস্যুতে এখনো কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। এটা খুবই প্রাথমিক পর্যায়ে।’
রিট আবেদনকারী পক্ষে শুনানিকারী জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ২০২৩ সালে সরকার নীতিগতভাবে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে চুক্তির জন্য অনুমোদন দিয়ে গেছে। পরবর্তী সময়ে এ সরকার এসে চুক্তির কার্যক্রমকে এগিয়ে নিচ্ছে। সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আইনে আছে, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বোর্ড অব গভর্নরস গঠিত হবে। সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত হবে। কিন্তু এখন সংসদ নেই। আমাদের বক্তব্য ছিল, যেহেতু সংসদ নেই, প্রধানমন্ত্রী নেই, মন্ত্রী নেই, তাই এই মুহূর্তে এ সরকার কোনো ধরনের প্রক্রিয়া গ্রহণ করতে পারে না।’