নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে দুইজনের মৃত্যু

নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পৃথক স্থানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে নরসিংদী শহরের বাসাইল রেলক্রসিং এলাকায় আবদুল্লাহ আল মামুন (৪৩) নামে এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী ও বিকালে রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে কাঞ্চন মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আবদুল্লাহ আল মামুন নরসিংদীর শিবপুরের দুলালপুর ইউনিয়নের দরগাবন্ধ গ্রামের মো. আবুল কাসেমের ছেলে। তিনি নরসিংদী শহরের শাপলা চত্বর এলাকার একটি ভাড়াবাসায় থেকে থার্মেক্স গ্রুপের একটি কারখানায় চাকরি করতেন। আর কাঞ্চন মিয়া রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি হাসনাবাদ গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

রেলওয়ে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, মামুন সকালে কারখানার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। সকাল পৌনে ৮টার দিকে বাসইল রেলগেটসংলগ্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় ভৈরব থেকে ছেড়ে আসা নরসিংদী কমিউটার ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এ ছাড়া পাশের রেললাইনে বিপরীত দিক থেকে পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল।

এ সময় ঢাকাগামী রেললাইনে দাঁড়িয়ে পাশের রেললাইনে পারাবত এক্সপ্রেস চলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। নরসিংদী কমিউটার ট্রেন কাছাকাছি চলে আসার পর ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বারবার তাকে সড়ে যেতে ডাকছিলেন। কিন্তু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি ওই ডাক শুনতে পাননি, এমনকি ট্রেনের হুইসেলের শব্দও তিনি বুঝতে পারেননি। পরে ওই ট্রেনে কাটা পড়ে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার করেন।

বাসাইল রেলগেটের গেটম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, নরসিংদী কমিউটার ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনদুটি একই সময়ে রেলগেট অতিক্রম করছিল। এতে তিনি হতভম্ভ হয়ে পরেন। ট্রেন আসছে, ট্রেন আসছে- বলে অনেক ডাকাডাকি করলেও শুনতে পাননি। এরপরই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তিনি।

এদিকে নিহত কাঞ্চন মিয়া আমিরগঞ্জ রেলওয়ে এলাকার দোকানগুলোতে পানি সরবরাহ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় বিকালেও তিনি পানি নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি মালবাহী ট্রেন আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পার হচ্ছিলো। এসময় কাঞ্চন মিয়া পানি নিয়ে রেললাইন পর হতে গিয়ে মালবাহী ট্রেনের সাথে ধাক্কা খেয়ে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে পৃথক স্থানে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারগুলোর কোন অভিযোগ নেই মর্মে তাদের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে।