জনস্বাস্থ্যের অধিকাংশ নলকূপ বিকল

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলাবাসীর বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে সরকারিভাবে বসানো অধিকাংশ নলকূপ দীর্ঘদিন ধরে বিকল হয়ে পড়ে আছে। এতে করে বিশুদ্ধ পানির অভাবে চরম বিপাকে পড়েছে এলাকাবাসী। নলকূপগুলো মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বারবার বলেও কোনো লাভ হয় না বলে অভিযোগ সুবিধাভোগীদের। তবে অচিরেই বিকল নলকূপগুলো সচল করার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

হিলি পল্লী বিদ্যুৎ অফিসসংলগ্ন একটি মক্তবের সামনে স্থানীয়দের বিশুদ্ধ পানির জন্য একটি নলকূপ স্থাপন করেছিল জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যেই সেটি চুরি হয়ে যায়। একইভাবে হিলি বাজারে বিএনপি অফিসের পাশে একটি নলকূপ বসানো হলেও তার হাতল নেই দীর্ঘদিন ধরে। উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় স্থাপিত ৭৮টি নলকূপের মধ্যে বেশিরভাগের এমন চিত্র। ২০১৭ সাল থেকে শুরু করে কয়েক ধাপে এসব নলকূপ বসানো হয়। নিম্নআয়ের মানুষের বিশুদ্ধ পানির চাহিদা মেটাতে নলকূপগুলো স্থাপনের পর কিছুদিন পানি পাওয়া গেলেও এখন অধিকাংশই নষ্ট হয়ে পড়ে রয়েছে। অনেক নলকূপের হাতল নেই। আবার কোনো স্থানে বসানো পুরো নলকূপই নেই। আবার কোনোটির সবকিছু থাকলেও পানি ঠিকমতো উঠছে না। এতে করে বেশ কিছুদিন ধরে বিশুদ্ধ পানির সংকটে রয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দারা।

হিলির তারকাটা এলাকার বাসিন্দা খোদেজা বেওয়া বলেন, ‘এখানে একটা টিউবওয়েল ছিল। আমরা এখান থেকে পানি নিয়ে খেতাম। সেই সঙ্গে কাপড়চোপড় ধোয়া থেকে শুরু করে পরিবারের সব ধরনের পানির চাহিদা মিটত এই টিউবওয়েলের পানি দিয়ে। এমনকি ছোট ছোট ছেলেমেয়ে এই টিউবওয়েলের পানিতে গোসল করত। কিন্তু হঠাৎ করে সেই টিউবওয়েলটা চুরি হয়ে গেছে। এ কারণে আমাদের এখানকার মানুষের পানি খাওয়া খুব কষ্ট হয়ে গেছে।’

একই গ্রামের আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের এখানে সরকারি টিউবওয়েল বসানো ছিল। বেশ কিছুদিন হলো টিউবওয়েলটা চুরি হয়ে গেছে।  দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এ কারণে খুব সমস্যার মধ্যে পড়তে হচ্ছে মানুষকে।’

স্কুল শিক্ষার্থী রুবায়েত হোসেন বলে, ‘আমরা এই পথ দিয়ে নিয়মিত স্কুলে যাই। যখন আমাদের পিপাসা লাগত তখন এই টিউবওয়েল থেকে পানি পান করতাম। কিছুদিন হয়ে গেল হঠাৎ করে দেখছি যে টিউবওয়েলটা নেই, চুরি হয়ে গেছে। এখন আমরা পানি পান করতেও পারছি না। আবার হাত-মুখ ধুবো সেটিও সম্ভব হচ্ছে না।’

হাকিমপুর উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আহসান হাবিব বলেন, ‘নলকূপ নষ্ট হলে তা ঠিক করে দেওয়া হবে। এজন্য আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করতে হবে।’

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব টিউবওয়েল বিকল হয়েছে সেগুলো তো কমিউনিটি লেভেলে ঠিক করার কথা। তারপরও যদি কেউ মেরামত করতে না পারে আমাদের অবগত করলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে।’