ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের ছাদের ওপর এক থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের যে লক্ষ্য সরকার নিয়েছে, তা পূরণ হচ্ছে না। পেছনে রয়েছে অন্তত চারটি চ্যালেঞ্জ। যেগুলো সমাধান না করলে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণে নেওয়া এ ভালো উদ্যোগটি আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে সন্দেহ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্ব জুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন কমছে। এর দাম বেশি আবার পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর। অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিবেশবান্ধব। এর দামও দিনে দিনে কমছে। এসব বিবেচনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিশেষ করে সৌরবিদ্যুতের দিকে ঝোঁকে বিভিন্ন দেশ। কিন্তু বাংলাদেশে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরেই এ খাত অবহেলিত। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়াতে সারা দেশে সরকারি স্থাপনার ছাদ ব্যবহার করে তিন হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রথম ধাপে রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা ৪৬ হাজার ৮৫৪টি প্রতিষ্ঠানে ১ হাজার ৪৫৪ দশমিক ৬১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে দরপত্র আহ্বান করেছে। গত ১৫ অক্টোবর থেকে বিভিন্ন ধাপে দরপত্র আহ্বান ও জমা দেওয়ার সময় শেষ হয় ২৭ নভেম্বর।
এ সময়ে ছয়টির মধ্যে দুটি বিতরণ সংস্থায় একটি প্রতিষ্ঠানও দরপত্র কেনেনি। বাকি চারটি প্রতিষ্ঠান মিলে মাত্র ১১টি দরপত্র বিক্রি হয়েছে। সাড়া কম হওয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগের নির্দেশনায় সব প্রতিষ্ঠান দরপত্রের সময়সীমা ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান গত ১৫ অক্টোবর সংস্থাগুলোকে ২০ নভেম্বরের মধ্যে দরপত্র জমার কাজ শেষ, ৫ ডিসেম্বরের মধ্যে দরপত্র মূল্যায়ন এবং ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে চুক্তি সই করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি এও বলেছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারির মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করতে হবে। সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে বিতরণ সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সৌরবিদ্যুতের এসব সিস্টেম হবে ওপেক্স মডেলের আওতায়। এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কোনো বিনিয়োগ করতে হবে না। উপরন্তু এ মডেলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলো তার ছাদ ব্যবহার করতে দেওয়ার জন্য একটি ভাড়া পাবে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলে সংযুক্ত হবে। সিস্টেম স্থাপন থেকে শুরু করে রক্ষণাবেক্ষণের সব দায়িত্ব বহন করবে বিনিয়োগকারী।
এ বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দর হবে বিভিন্ন সংস্থা যে দামে সরকারের কাছ থেকে বর্তমানে পাইকারি দামে যে বিদ্যুৎ কেনে তার সমান। এ ক্ষেত্রে বিরতণ সংস্থাভেদে সর্বোচ্চ ৬ টাকা ২৩ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৬২ পয়সা পর্যন্ত হবে। তবে দরপত্রে অংশ নিয়ে যে যত কম দামে বিদ্যুৎ দেবেন, তার সঙ্গে চুক্তি হবে।
বিতরণ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, দরপত্র জমার পর মূল্যায়ন, অনুমোদন ও কার্যাদেশ দিতে এক থেকে দেড় মাস সময় লাগবে। আবার এগুলো বাস্তবায়নেও সময় লাগবে। জানুয়ারি থেকেই নির্বাচনের তোড়জোড় শুরু হবে। ফলে নির্বাচনের আগে কোনোভাবেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব নয়। সামান্য কিছু সিস্টেম স্থাপন হতে পারে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ জিইয়ে রেখে তড়িঘড়ি করে দরপত্র আহ্বান করার কারণে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হননি। তাছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে এতগুলো সাইট পরিদর্শনের পর দরপত্রে অংশ নেওয়াও বেশ সময়সাপেক্ষ।
কম সময়ে বাস্তবায়ন নিয়ে বিদ্যুৎ উপদেষ্টার বক্তব্য হলো আগের মতো জটিল প্রক্রিয়া নেই। সৌরবিদ্যুৎ বসাতে বেশি সময় লাগে না। বেঁধে দেওয়া সময়ে করা সম্ভব। এটা সবার অস্তিত্বের বিষয়, বাস্তবায়ন করতেই হবে। শ্রীলঙ্কায় ৭৫ শতাংশ বিদ্যুৎ আসে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে। ভারতে ৪০ শতাংশ। তাহলে দেশে হবে না কেন?
ফাওজুল কবির আরও বলেন, ব্যয়বহুল এলএনজি আমদানি করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রতি ইউনিটে ২০ টাকা খরচ হবে। শিল্পে দিতে হবে ৪০ টাকায় গ্যাস। এটা সম্ভব নয়। তাই মুক্তির উপায় হলো নবায়নযোগ্য জ্বালানি।
বিতরণ সংস্থাগুলোর অগ্রগতি : দেশের সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এলাকার ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাধ্যমে প্রায় ৪৪ হাজার প্রতিষ্ঠানের ছাদে ১০৬৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের বিদ্যুতের সর্বোচ্চ দর ৬ টাকা ২৩ পয়সা।
আরইবির নবায়নযোগ্য জ্বালানি পরিদপ্তরের পরিচালক অসিত কুমার ভৌমিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় পর্যন্ত একটি দরপত্রও বিক্রি হয়নি। নতুন করে সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। ওই সময়ের পর বোঝা যাবে কতজন অংশ নিচ্ছেন।
সৌরবিদ্যুতে সাম্প্রতিককালে ভালো সাফল্য দেখিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। প্রতিষ্ঠানটি দেশের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৬৯৭টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে ৭২.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে ওপেক্স মডেলের আওতায়।
জানতে চাইলে পিডিবির নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গবেষণা ও উন্নয়ন পরিদপ্তরের পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৭টি প্যাকেজের দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। যার মধ্যে তিনটি প্যাকেজে তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে। নতুন করে সময় বৃদ্ধি করায় প্রতিযোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশা করছি।’
‘পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে এটি সরকারের একটি ভালো উদ্যোগ। অব্যবহৃত ছাদের ওপর এ ধরনের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের ফলে জমির অপচয় হবে না। আবার বিদ্যুতের দামও তুলনামূলক কম। এখান থেকে যে বিদ্যুৎ কেনা হবে, তা বর্তমান পাইকারি দর অর্থাৎ সর্বোচ্চ ৭.৬২ টাকার ওপর হবে না। দরপত্রে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এর চেয়েও কম দামে বিদ্যুৎ কেনার সুযোগ রয়েছে’ যোগ করেন তিনি।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি সর্বোচ্চ ৭ টাকা ৪৬ পয়সা দর নির্ধারণ করেছে। প্রথম দফার দরপত্রে কোনো প্রতিষ্ঠানই অংশ নেয়নি।
ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) নির্বাহী পরিচালক (প্রকৌশল) মোরশেদ আলম খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছি। দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে। সময় বৃদ্ধির কারণে এ সংখ্যা আরও বাড়ার প্রত্যাশা করছি।’
ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (ডেসকো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গাজী শাহরিয়ার কবীর দেশ রূপান্তরকে বলেন, তিনটি লটের মাধ্যমে ১২.৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের জন্য দরপত্র আহ্বানের পর এখন পর্যন্ত চারটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে।
নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (নেসকো) রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ১ হাজার ৯০৩টি প্রতিষ্ঠানের ছাদে প্রায় ৭১ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে। ওপেক্স মডেলের আওতায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৭ টাকা ৪ পয়সা দরে কেনা হবে উৎপাদিত বিদ্যুৎ।
প্রতিষ্ঠানটির তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ক্রয়) মো. আবু হেনা মোস্তফা কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ১০টি লটের মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি লটে দুটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র কিনেছে। নতুন করে দরপত্রে সময় বৃদ্ধি পাওয়ায় এই সংখ্যা বাড়তে পারে।
বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ : আন্তর্জাতিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইএফএ) জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, সরকারের এ উদ্যোগ ভালো। কিন্তু বাস্তবায়নে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং রয়েছে। ঢাকার বাইরে বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে এটি কখনো কখনো ভয়াবহ রূপ নেয়। ওপেক্স সোলার সিস্টেমটি বিদ্যুৎ না থাকলে বন্ধ থাকবে। এতে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক ক্ষতি হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যাটারি সংযোজন করলে তাতে আবার ব্যয় বাড়বে। বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া দরকার। এ ক্ষেত্রে অন্তত দিনের বেলায় লোডশেডিং না হওয়ার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
‘তাছাড়া সিস্টেমগুলোর বেশিরভাগের ক্যাপাসিটি ১০ কিলোওয়াট, ২০ বা ৫০ কিলোওয়াটের মতো। এত ছোট ছোট সিস্টেমে বিনিয়োগে আগ্রহী হওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, এতে তুলনামূলক ব্যয় বেশি কিন্তু মুনাফা কম। আরেকটি সমস্যা হলো গ্রামাঞ্চলের বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে ব্যক্তি-মালিকানাধীন গাছগাছালি রয়েছে যেগুলোর ছায়ায় উৎপাদন ব্যাহত হবে। ঝড়ের সময় এসব গাছের ডালপালা ভেঙে প্যানেল ভেঙে যাওয়ারও আশঙ্কা রয়েছে’ যোগ করেন তিনি।
শফিকুল আলমের মতে, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুতের এসব সিস্টেম রক্ষণাবেক্ষণ ও পাহারা দেওয়া আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ। এক সঙ্গে এত প্রকল্প বাস্তবায়নের জনবলেরও অভাব রয়েছে। এখানে বিনিয়োগও একটা বড় ফ্যাক্টর।
তবে পিডিবির পরিচালক প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, সবাই সচেতন হলে এসব সমস্যা দূর করা সম্ভব। তাছাড়া রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কম মজুরিতে স্থানীয় জনবল নিয়োগ দিলে ব্যয় কমবে। বড় ধরনের কারিগরি সমস্যা হলে তখন দক্ষ লোকের প্রয়োজন হবে সেখানে। সৌরবিদ্যুতে এ ধরনের সমস্যা কমই হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানেরই নিজস্ব নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছে। তাদের সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ পাহারায় নিয়োজিত রাখতে পারে আলোচনার ভিত্তিতে।
শফিকুল আলম বলেন, সরকারের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে পরীক্ষামূলক কিছু প্রকল্প করার দরকার ছিল। তাতে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া সহজ হতো।
ওপেক্স মডেলের আওতায় ঢাকা এবং বড় শহরগুলোর প্রতিষ্ঠানের ছাদে তুলনামূলক বড় সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং এর বাইরে বিভিন্ন স্থানের ছোট ছোট প্রকল্প সরকার ভর্তুকি দিয়ে ‘ক্যাপেক্স’ মডেলের আওতায় করতে পারে বলে পরামর্শ দেন তিনি।
খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলাপকালে তারা জানান, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার মধ্যে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো বিদ্যুতের ট্যারিফ। এখানে বিতরণ সংস্থাগুলো যে দরে সরকারের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনছে, তার চেয়ে বেশি দর নিতে পারবে না এসব সিস্টেম স্থাপনকারী। বিতরণ সংস্থাভেদে এ ট্যারিফও কমবেশি আছে। এ ক্ষেত্রে আরইবির ট্যারিফ সবচেয়ে কম। উল্টো সেখানে সৌরবিদ্যুতের সিস্টেম স্থাপনে ব্যয় বেশি হবে। কারণ, এগুলো স্থাপন হবে গ্রামাঞ্চলে ছোট ছোট সক্ষমতার। অথচ তারাই আবার বেশি সিস্টেম বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তাছাড়া সরকার পাইকারি বিদ্যুতের দাম বাড়ালেও ২০ বছরের জন্য সৌরবিদ্যুতের দর একই থাকবে।
বাংলাদেশ টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি সমিতির (বিএসআরইএ) সভাপতি মো. মোস্তফা আল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে সরকার নানারকম ভালো উদ্যোগ নিচ্ছে। কিন্তু এগুলো যেন কোনোভাবেই বাস্তবায়ন না হয়, সরকারের ভেতরে এমন একটা তৎপরতা থাকে সবসময়। এটা ‘হিপোক্রেসি’। এসব কারণে বিনিয়োগকারীরা ছাদভিত্তিক এই সৌরবিদ্যুৎ কার্যক্রমে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে নির্বাচনের আগে ১ শতাংশ লক্ষ্য পূরণও সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দরপত্রে তো সর্বোচ্চ দর বেঁধে দেওয়ার সুযোগ নেই। এখানে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে যিনি দর কম দেবেন, তিনিই কাজ পাবেন। বর্তমানে প্রতি ইউনিট ৫ টাকা দরেও সৌরবিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ রয়েছে। কিন্তু এটা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হবে। কারণ, ব্যয় তো প্রতি বছরই বাড়ছে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুতের পাইকারি দামের সঙ্গে সৌরবিদ্যুতের দাম সমন্বয় করা হলে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হতেন।
এ ব্যবসায়ী আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাদে সৌরবিদ্যুতের নিরাপত্তা সরকার দেবে না। বিপুলসংখ্যক এসব সিস্টেমের নিরাপত্তা দেওয়া এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রচুর জনবল লাগবে। সেটি ব্যবস্থা করা কঠিন, আবার ব্যবস্থা করা গেলেও এজন্য যে খরচ লাগবে, তাতে সামগ্রিক ব্যয় বাড়বে।
তিনি বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এর মালপত্র আমদানিতে কোনো ধরনের ট্যাক্স দিতে হয় না। কিন্তু ওপেক্স সোলার সিস্টেমের যন্ত্রপাতিতে অনেক বেশি কর দেওয়া লাগে। বর্তমানে সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ আমদানিতে ১৪.৫ শতাংশ থেকে ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের কর দিতে হচ্ছে। উচ্চহারের এ কর নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ নিয়ে একাধিকবার সরকারকে বলার পরও কোনো সুরাহা হচ্ছে না।
‘বিদ্যুৎ, জ্বালানি খাতের অন্যান্য ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান ১০ বছর করছাড় সুবিধা পায়। কিন্তু ওপেক্স সিস্টেমে এ ধরনের কোনো ঘোষণা নেই। বরং পদে পদে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হচ্ছে’ বলেন মোস্তফা আল মাহমুদ।