বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেছেন, এসএমই খাত দেশের অর্থনীতির প্রকৃত চালিকাশক্তি। দেশের মোট কর্মসংস্থানের প্রায় ৮০ শতাংশ এসএমই থেকে আসে এবং জিডিপিতে এই খাতের অবদান ২৫ শতাংশের বেশি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, আঞ্চলিক ভারসাম্যহীনতা দূর করা ও নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এসএমই খাতের ভূমিকা অগ্রগণ্য। কিন্তু এখানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন।
গতকাল শনিবার তেজগাঁওয়ের নিজস্ব কার্যালয়ে বিসিআই-এর আয়োজনে ‘এসএমই ফাইন্যান্সিং: অপরচুনিটি অ্যান্ড ওয়ে ফরওয়ার্ড’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় এসব কথা বলেন আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মো. মুসফিকুর রহমান।
অনুষ্ঠানে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী বলেন, এসএমই খাতে ফাইন্যান্সিং শুধু অর্থায়ন নয়, এটি আমাদের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ। যদি আমরা এই খাতে সহজ অর্থায়ন নিশ্চিত করতে পারি তবে বাংলাদেশ আগামী দশকে আঞ্চলিকভাবে একটি শক্তিশালী উদ্যোক্তা নির্ভর অর্থনীতি হিসেবে দাঁড়াবে। এসএমই ফাইন্যান্সিংয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিজে আমাদের আরও কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন মুসফিকুর রহমান বলেন, এসএমই ফাউন্ডেশন এসএমই সেক্টর নিয়েই কাজ করে যাচ্ছে। এসএমই ফাউন্ডেশন নিয়মিতভাবে বিভিন্ন ট্রেনিং, কর্মশালা, অর্থায়নে জটিলতা নিরসন, এসএমই উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাতকরণের জন্য দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন মেলা আয়োজন করছে। এসএমই ফাইন্যান্সিংয়ের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলো ফাইন্যান্সিয়াল লিটারেসি। আমাদের এ বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই এন্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্টের যুগ্ম পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক গত ১৭ মার্চে জারি করা সার্কুলারে সিএমএসএমই ফাইন্যান্সিংয়ের উল্লেখযোগ্য সুযোগসমূহ তুলে ধরা হয়েছে। নতুন উদ্যোক্তা, স্টার্ট-আপ, নারী উদ্যোক্তা, পুণঃঅর্থায়ন স্কিম ইত্যাদি বিশদভাবে তুলে ধরা হয় এতে। বিভিন্ন ব্যাংক থেকে সিএমএসএমই ঋণ সুবিধা নেওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।