খুলনায় আদালতের সামনে দুজনকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। নিহতরা হলেন, রাব্বি রাজন (৩৫) ও হাসিব হাওলাদার (৩১)। গতকাল রবিবার দুপুরে নগরীর কেডি ঘোষ রোডের খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে এই হত্যার ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে রাব্বি রাজন রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামের এজাজ শেখের ছেলে ও হাসিব হাওলাদার নগরীর নতুনবাজার লঞ্চঘাট এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। নিহত রাজন ও হাসিব শীর্ষসন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
আদালত এলাকায় জোড়া হত্যাকান্ডের পর চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে রাস্তাঘাট ফাঁকা ও দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজন ও হাসিব অস্ত্র মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে মোটরসাইকেল রেখে চা পান করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। নম্বরবিহীন এফ জেড নামের মোটরসাইকেলে বসে থাকা অবস্থায় চার থেকে পাঁচ সন্ত্রাসী হেঁটে এসে প্রথমে তাদের মাথায় পর পর চার-পাঁচ রাউন্ড গুলি করে। গুলির আঘাতে তারা রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা ধারালো চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়।
কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, দুজন মোটরসাইকেলের ওপর বসেছিল। এ সময় হঠাৎ চার-পাঁচজন যুবক আসে। তখন তাদের মধ্যে মাথায় ক্যাপ পরা একজন পর পর চার-পাঁচটি গুলি করে। এরপর অন্যরা তাদের চাপাতি দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। এতে হাসিব হাওলাদার ঘটনাস্থলেই মারা যায়। এরপর সন্ত্রাসীরা হাঁটতে হাঁটতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, আদালত এলাকার কাছে একটি কালো রঙের মাইক্রোবাস দাঁড়িয়েছিল। সন্ত্রাসীরা ঘটনার পর ওই মাইক্রোবাসে উঠে জিলা স্কুলের সামনে দিয়ে কাস্টমঘাট এলাকার দিকে চলে যায়। এ সময় তাদের পাহারায় ছিল চারটি মোটরসাইকেলে কয়েক যুবক। গুলির শব্দ ও জোড়া হত্যাকা-ের খবর আদালত এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। ভয়ে আদালতে হাজিরা দিতে আসা লোকজন ও আইনজীবীরা দিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে। অনেকে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. শামীম হাসার জানান, হত্যাকান্ডের পর নিহত ফজলে রাব্বি রাজনের লাশ খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে নেওয়া হয়। তবে হাসিবের লাশ ইজিবাইকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পথে কে বা কারা ছিনতাই করে নিয়ে গেছে বলে শুনেছি। তবে পরে তার লাশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, গত ৩০ মার্চ রাতে যৌথবাহিনীর হাতে শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশের সঙ্গে রাজন ও হাসিব গ্রেপ্তার হয়। আড়াইমাস আগে আদালত থেকে তারা জামিনে মুক্তি পেয়ে বাইরে বেরিয়ে আসে। গতকাল রবিবার নগরীর সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলায় তাদের আদালতে হাজিরার দিন ছিল। দুপুরে তারা আদালতে হাজিরা দিয়ে বের হওয়ার সময় প্রতিপক্ষ সন্ত্রীদের গুলিতে নিহত হয়।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, নিহত রাজন ও হাসিব খুলনার শীর্ষ মাদক কারবারি পলাশ গ্রুপের সদস্য। তাদের দুজনের বিরুদ্ধে খুলনা থানায় হত্যাসহ ছয়টি করে মামলা রয়েছে। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে নগরীর সোনাডাঙ্গা ও লবণচরা থানাসহ অন্যান্য থানাতেও একাধিক মামলা রয়েছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড সিপি) ত. ম. রোকনুজ্জামান জানান, নিহত দুজন খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সক্রিয় সদস্য । এই ডাবল মার্ডারের সঙ্গে পলাশ গ্রুপের প্রধান প্রতিপক্ষ অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারে গ্রেনেড বাবুর সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকান্ড সংগঠিত হতে পারে। ঘটনার পর থেকে ঘটনাস্থলের সিসি ফুটেজ এবং মোটরসাইকেলের বিভিন্ন চিত্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। খুব শিগগির হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।