বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতার দাবি দীর্ঘদিনের। বিশেষ করে নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচারাঙ্গনকে পৃথক করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তিন দশক ধরেই চলছে নানা আলোচনা। অবশেষে বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ এখন সুপ্রিম কোর্টের হাতে থাকছে। বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠায় ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নির্দেশে গতকাল রবিবার আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশ করে।
এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী, বিচার বিভাগের সব প্রশাসনিক ও সাচিবিক দায়িত্ব এখন থেকে পালন করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়। অর্থাৎ অধস্তন আদালতের তত্ত্বাবধান, নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলার সবকিছু এখন থেকে করবে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয়, যা এতদিন নির্বাহী বিভাগ, তথা আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাতে। এর আগে ২০ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ সুপ্রিম কোর্টের পৃথক সচিবালয়ের বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। বিচার বিভাগের প্রাতিষ্ঠানিক স্বতন্ত্রীকরণ নিশ্চিতে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের উদ্যোগে গত বছরের ২৭ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় গঠন-সংক্রান্ত প্রস্তাব আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সেই প্রস্তাবে সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের উদ্দেশ্য পূরণে হাইকোর্ট বিভাগ কর্তৃক অধস্তন আদালত ও ট্রাইব্যুনালের তত্ত্বাবধান এবং নিয়ন্ত্রণ যথাযথরূপে পালনের জন্য একটি স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অধ্যাদেশের খসড়া ও সম্ভাব্য সংস্কার সম্পর্কে পরিপূর্ণ প্রস্তাব পাঠানো হয়।
গতকাল সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে অন্তর্র্বর্তী সরকারের ইতিবাচক সহযোগিতায় বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিল।’
বিচার বিভাগকে নির্বাহী বিভাগ থেকে মুক্ত করতে ১৯৯৫ সালে বিসিএস বিচার অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মাসদার হোসেন (জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অবসরে) তার সহকর্মীদের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠায় কিছু নির্দেশনাসহ চূড়ান্ত রায় দেয়। তবে, রাজনৈতিক সরকারগুলোর আমলে এই রায় কার্যকর করে বিচার বিভাগকে সত্যিকার অর্থে স্বাধীন না করা নিয়ে নানা সমালোচনা হয়েছে। কয়েক দশক ধরে চলা আলোচনার মধ্যে বিচার বিভাগের আলাদা সচিবালয় হচ্ছে।