চট্টগ্রাম নগরের অক্সিজেন এলাকায় কেডিএস কারখানার পাশে রেললাইন সংলগ্ন করিম কলোনিতে অগ্নিকাণ্ডে অর্ধশত টিনশেড বেড়ার ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
আজ সোমবার পৌনে দশটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলের পাশে কেডিএস কারখানা থাকায় আশপাশের লোকজন প্রথমে মনে করেছিলেন, আগুন সেখানে লেগেছে।
কেডিএস কারখানায় কর্মীদের সতর্ক করে অ্যালার্মও বাজানো হয়। পরে কেডিএস কারখানার অগ্নিনির্বাপণকর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের বেশির ভাগই কেডিএস পোশাক কারখানার কর্মী বলে জানা গেছে।
ফায়ার সার্ভিস চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ৫০টি ঘর পুড়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তিন লাখ টাকার। উদ্ধার হয়েছে এক কোটি টাকার সম্পদ।’
কেডিএস কারখানার কর্মকর্তা সুমন দাশ বলেন, ‘কারখানার পাশে ধোঁয়া দেখে প্রথমে অ্যালার্ম বাজিয়ে দেওয়া হয় কর্মীদের সতর্ক করতে। পরে দেখা যায়, পাশের কলোনিতে আগুন লেগেছে। কেডিএসের অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র দিয়ে শুরুতে আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন এসে আগুন নেভান।
এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার জন্য কেডিএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আলহাজ খলিলুর রহমান উদ্যোগ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। আজ দুপুর ১২টায় ঘটনাস্থলে গেলে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাককর্মী আফিয়া জাহান বলেন, ‘সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে ৫০০ গজ দূরে রেললাইনের পাশে কর্মস্থলে চলে আসি। পৌনে দশটার দিকে কারখানায় বেজে ওঠে অ্যালার্ম। খবর পাই কলোনিতে আগুন লেগেছে। দৌঁড়ে গিয়ে দেখি দাউ দাউ করে জ্বলছে বস্তির সব ঘর। চোখের সামনে সব জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে গেল। পরনের শাড়ি ছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।’
ঘটনাস্থলে দেখা যায়, করিম কলোনি যেন একটি ধ্বংসস্তূপ। বাতাসে পোড়া গন্ধ। বস্তি থেকে তখনও সাদা ধোঁয়া উড়ছে। ধ্বংসস্তূপের সামনে কান্না করতে করতে পোশাকর্মী বিলকিছ বলেন, ‘খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে ছুটে এসে দেখি করিম কলোনি জ্বলছে। কেডিএস পোশাককর্মী ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন মিলে আগুন নেভাচ্ছে। ততক্ষণে সব শেষ। ঘর থেকে কিছুই বের করতে পারিনি। পুড়ে গেছে মায়ের চিকিৎসার জন্য জমানো টাকা ১০ হাজার টাকা।’
আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে পোশাকর্মী আবিদার ঘরও। বিলাপ করতে করতে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগুন সব কেড়ে নিয়েছে। এখন খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হবে।’
পোশাককর্মী জিন্নাত আক্তার বলেন, ‘আমি এবং আমার স্বামী সকাল ৮টার দিকে কারখানায় কাজে চলে যাই। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে দেখি পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে। ঘরের মধ্যে ছিল আমার অসুস্থ আট বছরের ছেলে মো. সাব্বির। প্রতিবেশীরা আমার ছেলেকে দ্রুত বের করে আনেন। তা না হলে আমার ছেলে পুড়ে অঙ্গার হয়ে যেত।