শিক্ষকদের কর্মবিরতি

বার্ষিক, নির্বাচনী পরীক্ষা সম্পন্নের নির্দেশ মাউশির

দেশের সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা গতকাল সোমবার থেকে চার দফা দাবিতে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এর ফলে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হচ্ছে না বলে খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে গতকাল এক নির্দেশনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সরকারি এবং বেসরকারি নিম্নমাধ্যমিক, মাধ্যমিক এবং স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় বার্ষিক, নির্বাচনী ও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের নির্দেশ দিয়েছে।

মাধ্যমিক শিক্ষকদের চারটি দাবি হলো সহকারী শিক্ষক পদকে বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারভুক্ত করে ‘মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের’ গেজেট প্রকাশ। বিদ্যালয় ও পরিদর্শন শাখায় কর্মরত শিক্ষকদের বিভিন্ন শূন্য পদে নিয়োগ, পদোন্নতি এবং পদায়ন দ্রুত কার্যকর করা। সুপ্রিম কোর্টের রায়ের আলোকে বকেয়া টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের মঞ্জুরি আদেশ দেওয়া। ২০১৫ সালের আগের মতো সহকারী শিক্ষকদের দুই থেকে তিনটি ইনক্রিমেন্টসহ অগ্রিম বর্ধিত বেতন-সুবিধা বহাল করে গেজেট প্রকাশ।

সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির গতকালের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের পেশাগত মর্যাদা ও বেতন-ভাতাসংক্রান্ত চার দফা দাবির বিষয়ে গতকাল মাধ্যমিক এবং উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সামনে শিক্ষকরা দ্বিতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। কিন্তু দাবিগুলো না মানায় এখন লাগাতার কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন।

ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল রবিবার নোটিস দিয়ে পরীক্ষা না নেওয়ার কথা জানিয়েছে। সকালে খুলনায় অবস্থিত সরকারি করোনেশন গার্লস হাইস্কুলের একজন শিক্ষক জানান, তাদের বিদ্যালয়ে পরীক্ষা হচ্ছে না। রাজধানীর অন্যতম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গভর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাইস্কুলেও বার্ষিক পরীক্ষা হয়নি। এ ছাড়া শেরেবাংলা নগর সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়েও আজকের (গতকাল) পরীক্ষা হয়নি।

বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির ব্যানারে এ কর্মসূচি চলছে। এই সমিতির কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক মোহাম্মদ ওমর ফারুক গণমাধ্যমকে বলেছেন, মন্ত্রণালয় যদি তাদের দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে রূপরেখাসহ সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে তারা শিক্ষার্থী ও জাতীয় স্বার্থে কর্মবিরতি রাখবেন না।

বার্ষিক পরীক্ষা ২০ থেকে ৭ ডিসেম্বর এবং নির্বাচনী পরীক্ষা ২৭ নভেম্বর থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হবে। একই সঙ্গে মাউশির পূর্ববর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা ২৮ থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হবে। মাউশির বিজ্ঞপ্তিতে পরীক্ষাগুলো যথাসময়ে ও নির্বিঘেœ আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এবং সব বিদ্যালয়ের প্রধানদের প্রতি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মাউশির আদেশে বলা হয়, পরীক্ষার দায়িত্বে থাকা শিক্ষক বা কর্মকর্তার যেকোনো ধরনের শৈথিল্য বা অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ১ ডিসেম্বর সরকারি (নিম্নমাধ্যমিক/মাধ্যমিক/স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাধ্যমিক স্তর) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান বার্ষিক/নির্বাচনী পরীক্ষা ২০২৫ গ্রহণ-সংক্রান্ত এবং পরীক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত শিক্ষক/কর্মকর্তাদের উপস্থিতি-সংক্রান্ত তথ্য দুপুর ১২টার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।’ বিষয়টি জরুরি বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।