ট্রাম্পের ইউক্রেন পরিকল্পনায় ইউরোপের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইউক্রেন যুদ্ধে শান্তি স্থাপনের নতুন প্রচেষ্টা ইউরোপে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পশ্চিমা দেশগুলো আশঙ্কা করছে, দ্রুত করা যেকোনো চুক্তি রাশিয়ার পক্ষে যেতে পারে এবং মহাদেশের নিরাপত্তা দুর্বল করে দিতে পারে। ইউরোপের সরকারগুলোর ধারণা, ওয়াশিংটন রাশিয়ার সঙ্গে এমন কোনো চুক্তি করতে পারে যা রাশিয়ার অর্জিত অঞ্চলের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করবে না এবং ভবিষ্যতে মার্কিন-রাশিয়া অর্থনৈতিক সম্পর্ককে উন্মুক্ত করে দেবে ,যা ইউরোপের দেশগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করছে।        

ইউরোপ যুদ্ধের প্রভাবের সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র হলেও ইইউ নেতারা সাম্প্রতিক আলোচনায় খুব কম প্রভাব রাখতে পেরেছেন। তারা ফ্লোরিডায় মার্কিন-ইউক্রেন বৈঠকে অনুপস্থিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে তারা কেবল পর্যবেক্ষক হিসেবে থাকবেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মার্কিন-রাশিয়ার মহাশক্তি সংক্রান্ত আলোচনার ওপর ভিত্তি করে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ধীরে ধীরে একটি বিপদজনক চুক্তির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
 
ন্যাটোতে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার নিয়ে মিশ্র সংকেত ইউরোপের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে। নেতারা সতর্ক করছেন  ইউক্রেনের ভূখণ্ডীয় অখণ্ডতা উপেক্ষা করবে এমন কোনও চুক্তি রাশিয়াকে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোকে হুমকি দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে পারে। ইউরোপীয় কিছু গোয়েন্দা সংস্থার মূল্যায়ন অনুযায়ী, রাশিয়া আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ন্যাটোর বিরুদ্ধে যুদ্ধের পরিকল্পনা রাখছে।
 
এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এখনও ডোনবাসের বাকি অংশে রাশিয়ার দাবি অস্বীকার করেনি এবং যুদ্ধ শেষ হলে মস্কোর সঙ্গে ভবিষ্যতে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সম্ভাবনাও প্রকাশ করেছে। ইউরোপের কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, এতে পাওয়া কয়েক বিলিয়ন ডলার পাওয়া রাশিয়ার সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে ব্যবহার হবে। 

ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে ইউক্রেনের জন্য প্রস্তাবিত 'রিএস্যুরেন্স ফোর্স' সীমিত আকারের হবে এবং কার্যকর হতে মার্কিন সমর্থনের উপর নির্ভর করবে। বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিরক্ষা খাতে যথাযথ বিনিয়োগ না করার দাম এখন দিচ্ছে ইউরোপ।