চৌদ্দগ্রামে হামলা-ভাঙচুর  কর্মচারীকে মারধর, থানায় অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে সামান্য একটি ঘটনার জেরে স্থানীয় একটি সংঘবদ্ধ কিশোর চক্র মো. আব্দুর রহমান ওরফে মামুন নামে এক ব্যবসায়ীর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। 

এ সময় কর্মচারী ইমদাদুল হক ইমনকে মারধর করা হয়। রবিবার সন্ধ্যায় চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার কালিরবাজার এলাকার আব্দুর রহমান স’মিল অ্যান্ড মামুন ফার্নিচার মার্ট-এ এ ঘটনা ঘটে। 

হামলা ও লুটপাটে লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী মামুন। ঘটনাটি জানিয়ে তিনি রাতেই চৌদ্দগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। 

সোমবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগপত্রের সূত্রে জানা যায়, কালিরবাজার এলাকার দীর্ঘদিনের সুনামধন্য ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান মামুন ঘটনার দিন জরুরি কাজে কুমিল্লায় যান। 

সন্ধ্যায় কর্মচারী ইমনের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন—স্থানীয় একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে কিছু উত্তেজিত কিশোর ও যুবক তার দোকানে অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা দোকানের জিনিসপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। 

বাধা দিলে ইমনকে মারধর করা হয় এবং দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারার চেষ্টা করা হয়। 

কোপে আঘাত লাগার ফলে ইমনের ব্যবহৃত প্রায় ৪০ হাজার টাকা দামের একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। পুরো ঘটনায় প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি মামুনের।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কমলপুর গ্রামের মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে গাজী শাকিল (২৪), গাজী সজীব (২০) ও পাঁচরা গ্রামের ফজলুল হক সওদাগরের ছেলে মো. রিফাত (২২)-এর নাম উল্লেখ করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। 

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এলাকাবাসী জানিয়েছে-হামলার পর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং পুনরায় এমন ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কালিরবাজার এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আতঙ্ক বিরাজ করছে।

ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান মামুন বলেন, “ঘটনার সময় আমি কুমিল্লায় ছিলাম। আশেপাশের গ্রামের কিছু কিশোর এসে হঠাৎ আমার দোকানে হামলা চালায়, ভাঙচুর করে এবং আমার কর্মচারীকে মারধর করে। তার দামী মোবাইল ফোনটিও ভেঙে ফেলে। 

ক্যাশ থেকে টাকা এবং কিছু আসবাবপত্রও নিয়ে যায়। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, “সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের কিশোর বয়সী কিছু যুবক এ ঘটনায় জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”