অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম ম্যাচ মাত্র দুই দিনে হেরে গেছে ইংল্যান্ড। চলছে ইংলিশ মিডিয়ার তীব্র সমালোচনা। এই পরিস্থিতিতেও উপভোগের মন্ত্রেই দীক্ষিত বেন স্টোকসের দল। তিনি বলেন, মাঠের চাপ সামলাতে মানসিকভাবে সতেজ থাকা অত্যন্ত জরুরি, আর সে জন্য উপভোগ করাই সেরা মন্ত্র।
ব্রিসবেনে দ্বিতীয় টেস্টের আগে ইংল্যান্ডের কয়েকজন ক্রিকেটারকে হেলমেট ছাড়া বৈদ্যুতিক স্কুটারে চলাচল করতে দেখা যায়, যা কুইন্সল্যান্ড আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। এরপর থেকেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে আবারও ইংল্যান্ড দলকে নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে। এর আগেও প্রথম টেস্টের সময় পার্থে বিমানবন্দর, গলফ কোর্স ও অ্যাকুরিয়ামে যাওয়ার সময় ক্রিকেটারদের অনুসরণ করে ছবি তোলা হয়।
এ বিষয়ে স্টোকস বলেন, 'যদি কেউ মনে করে, এই নজরদারির ফলে অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের অবসর উপভোগ বন্ধ হয়ে যাবে, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। ক্রিকেটের বাইরে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণের জন্য দারুণ একটি দেশ। এখানে ঘোরাঘুরি, গলফ খেলা, কফিশপে সময় কাটানো বা বাইরে মধ্যাহ্নভোজ করার দারুণ সুযোগ রয়েছে।'
স্টোকস আরও বলেন, 'চাপের মধ্যে নিজের মন মুক্ত রাখা এবং নিজেকে উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া একজন খেলোয়াড়ের জন্য অত্যন্ত জরুরি। আমরা মানুষ। সময় পেলে অন্য কোনো দেশ ঘুরে দেখার প্রয়োজন আছে। বিশেষ করে যখন আমরা এমন জায়গায় আছি, যেখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশ অনেক সুন্দর।'
সাবেক অস্ট্রেলীয় পেসার মিচেল জনসন সম্প্রতি ইংল্যান্ড দলকে অহংকারী বলে মন্তব্য করেছিলেন। জবাবে স্টোকস বলেন, 'অহংকারী' শব্দটি তার কাছে ঠিক মনে হয়নি। তিনি জানান, অতিরিক্ত সমালোচনা ও গণমাধ্যমের নজরদারি সামলাতে তিনি অভ্যস্ত। ২০১৭ সালে একটি নাইটক্লাব ঘটনার জেরে ব্যাপক গণমাধ্যম চাপের মুখে পড়েন স্টোকস। ওই ঘটনার কারণে তিনি পরের অ্যাশেজ সিরিজেও খেলতে পারেননি। তার দলের বেশ কয়েকজন এই প্রথম অ্যাশেজ খেলতে এসেছে।
স্টোকস জানান, সফরের আগেই দল হিসেবে এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় পা রাখার পর থেকেই হোটেলের সামনে সকাল থেকে সাংবাদিকদের ভিড় ছিল। গলফ কোর্স কিংবা বাইরে খেতে যাওয়ার সময়ও অনুসরণ করা হয়েছে ক্রিকেটারদের। তবে তিনি মনে করেন, এসবের মধ্যেও খেলোয়াড়দের মানসিক স্বস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি। আগের অ্যাশেজ সিরিজে করোনার জন্য মাঠের বাইরে চলাফেরার সুযোগ ছিল সীমিত। এবার সে পরিস্থিতি না থাকায় ক্রিকেটাররা কিছুটা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছেন।
ব্রিসবেনের গ্যাবায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্টে সিরিজে সমতা ফেরানোর লক্ষ্যে মাঠে নামবে ইংল্যান্ড। এই মাঠে তারা সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৮৬ সালে। দলে চোটের কারণে মার্ক উডের পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন অল-রাউন্ডার উইল জ্যাকস। অন্যদিকে চোটে পড়ায় অস্ট্রেলিয়া দলে থাকছেন না ওপেনার উসমান খাজা।