দেশে ফেরা অনিশ্চিত ভারতীয় সোনালী খাতুনের

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ কর্র্তৃক ‘বাংলাদেশি’ তকমায় পুশইনের শিকার ৯ মাসের অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ ৬ ভারতীয় নাগরিকের জামিন হলেও আইনি জটিলতায় এখনই তাদের দেশে ফেরা হচ্ছে না। গত সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার পর গতকাল বুধবার আদালতে  নিয়মিত হাজিরা দিয়েছেন তারা। আবারও তাদের আগামী ২৩ ডিসেম্বর আদালতে হাজির হতে হবে। আদালতে হাজিরা শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন ভারতীয় নাগরিকদের আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু। এদিকে, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে সোনালী খাতুন নামে বাংলাদেশে পুশইন করা এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার ৮ বছর বয়সী সন্তানকে ফিরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

পুশইন হওয়া এই ভারতীয় নাগরিকরা হচ্ছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার মরারই থানার মন্নু শেখের ছেলে দানেস (২৮), দানেসের স্ত্রী সোনালী বেগম (২৬), তাদের ছেলে সাব্বির (৮), আজিজুল দেওয়ানের ছেলে কুরবান দেওয়ান (১৬), ইমন দেওয়ান (৬) ও সেরাজুল শেখের মেয়ে সুইটি বিবি (৩৩)। আইনজীবী একরামুল হক পিন্টু বলেন, যেহেতু আদালতে মামলা বিচারাধীন। সেহেতু মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন না। ভারতীয় নাগরিক সোনালী বেগম অন্তঃসত্ত্বা যে কোনো সময় বাচ্চা প্রসব করতে পারেন; সে বিবেচনায় আদালত তাকেসহ আরও তিনজনকে জামিন দিয়েছে। কিন্তু মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের জিম্মাদারের বাড়িতেই থাকতে হবে। আইনজীবী আরও জানান, আদালতে হাজিরা শেষে তারা তাদের জিম্মাদার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা মহল্লার ফারুক হোসেনের বাড়িতে গেছেন। আগামী ২৩ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী দিন ধার্য করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম বলছে, দেশটির সুপ্রিম কোর্ট সোনালী খাতুন ও তার ৮ বছর বয়সী সন্তানকে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, মানবিক কারণে এ দুজনকে ফেরত আনা হচ্ছে। কিন্তু বাকি চারজনের কথা উল্লেখ করা হয়নি। ভারতের প্রধান বিচারপতি সুরিয়া কান্ত এবং বিচারপতি জয়মালা বাগচিকে নিয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের দুই সদস্যের বেঞ্চ পশ্চিমবঙ্গের সরকারকে সোনালী খাতুনের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট জানায়, কিছু ক্ষেত্রে মানবিক কারণের প্রতি আইনকে নমনীয় হতে হয়। এই মামলাটি আলাদা কারণ তারা নিজেদের ভারতীয় দাবি করেন।

ভারতীয় নাগরিক ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ভারতের দিল্লিতে ইটভাটায় কাজ করার সময় ‘বাংলাদেশি’ তকমায় দুটি পরিবারের এই ৬ নাগরিক গত ২৪ জুন পুলিশের হাতে আটকের পর বিএসএফ তাদের কুড়িগ্রাম সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশইন করে। গত ২০ আগস্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার আলীনগর ভূতপুকুর এলাকা থেকে পুলিশ তাদের আটক করে। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে সোমবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নয়াগোলা এলাকার ফারুক হোসেনের জিম্মায় ৫ হাজার টাকা বন্ডে আদালত তাদের জামিন প্রদান করে। কারাগারে বন্দি থাকা সোনালী বেগম জামিনে মুক্ত হওয়ার পর সাংবাদিকদের বলেন, দিল্লি পুলিশ তাদের অন্যায়ভাবে আটক করে বিএসএফের মাধ্যমে আমাদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়। তবে অন্তঃসত্ত্বা হলেও কারাগারে কোনো সমস্যা হয়নি বলে জানান ভুক্তভোগী সোনালী। তিনি বলেন, আমরা দ্রুত আমাদের নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। ৬ ভারতীয় নাগরিকের জামিনদার ফারুক হোসেন বলেন, সোনালী অন্তঃসত্ত্বা হওয়ায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভারতীয় নাগরিকদের জামিন দেওয়া হয়েছে। যতদিন পর্যন্ত ভারত সরকার আইনিভাবে এর সমাধান না করছে, ততদিন তারা আমার বাড়িতেই থাকবে।

এদিকে, মেহেরপুরের গাংনী সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় পুলিশের হাতে আটক ৩০ বাংলাদেশিকে পুশইন করেছে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। পুশইন হওয়া সবাই ভারতের কলকাতাসহ বিভিন্ন রাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়ে বিভিন্ন মেয়াদে কারাভোগ করে। গতকাল বুধবার ভোরে গাংনী উপজেলার ১৪০ এর ৬এস মথুরাপুর মাঠ নামক সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। সীমান্ত পার হলে তেঁতুলবাড়িয়া বিওপি ক্যাম্পের সদস্যরা তাদের আটক করেন। আটকদের মধ্যে ১৮ জন পুরুষ, ২ জন শিশু, ১২ জন নারী রয়েছেন। তারা সবাই খুলনা, লালমনিরহাট ও আশপাশের জেলার বাসিন্দা। আটকদের একজন জানান, কাজের সন্ধানে তারা অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন এবং কলকাতাসহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছিলেন। ছয়-সাত দিন আগে তাদের আটক করে পশ্চিমবঙ্গের বহরমপুর জেলে পাঠানো হয়। সেখান থেকে গাংনী  সীমান্ত দিয়ে পুশব্যাক করা হয়। বিজিবি জানিয়েছে, তেঁতুলবাড়িয়া বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমানারেখার ১৪০/৬ এস পিলারের আনুমানিক ১০০ গজ ভেতরে ৩০ জন বাংলাদেশিকে ঠেলে পাঠায় বিএসএফ। এসব ব্যক্তি দালালের মাধ্যমে ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করেছিল। গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বনি ইসরাইল বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে পুশইন হওয়া ব্যক্তিদের তাদের স্ব-স্ব পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।