নিউমুরিং টার্মিনাল

বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তি-প্রক্রিয়া নিয়ে বিভক্ত রায়

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে বিদেশি অপারেটরের সঙ্গে চুক্তির প্রক্রিয়ার বৈধতা প্রশ্নে দেওয়া রুলের ওপর বিভক্ত রায় দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। জ্যেষ্ঠ বিচারক ফাতেমা নজীব নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল চুক্তির প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করেন। আর কনিষ্ঠ বিচারক জ্যেষ্ঠ বিচারকের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে রুল খারিজ করে রায় দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা বলেন, বিষয়টি এখন প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে।তিনি মামলাটি নিষ্পত্তির জন্য হাইকোর্টের অন্য বেঞ্চে পাঠাবেন।

২০০৭ সালে চট্টগ্রাম বন্দরে নিউমুরিং টার্মিনালটি নির্মিত হয়। বন্দরের আমদানি-রপ্তানির কনটেইনারের বেশিরভাগ এই টার্মিনাল দিয়েই পরিবাহিত হয়। দেশীয় প্রতিষ্ঠান ‘সাইফ পাওয়ারটেক’ এটি পরিচালনা করে আসছিল। চলতি বছরের ৬ জুলাই তাদের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর এটির পরিচালনার দায়িত্ব পায় নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড। নিউমুরিং টার্মিনাল পরিচালনায় ২০১৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারক হয়।

টার্মিনাল পরিচালনা করতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে বাংলাদেশ যুব অর্থনীতিবিদ ফোরামের পক্ষে সংগঠনের সভাপতি মির্জা ওয়ালিদ হোসাইন রিট আবেদনটি করেন। রুলে দেশি অপারেটরদের অনুমতি না দিয়ে পিপিপি আইন ও সংশ্লিষ্ট নীতিমালা লঙ্ঘন করে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিদেশি কোম্পানির চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন অবৈধ হবে না, তা জানতে চায় হাইকোর্ট। গত ২০ নভেম্বর হাইকোর্ট এ মামলার শুনানি না হওয়া পর্যন্ত বন্দর পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-প্রক্রিয়া চালানো যাবে না বলে মৌখিক আদেশ দেয়। এ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপক্ষ ওইদিন আদালতকে আশ্বস্ত করে, শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত চুক্তি সম্পর্কিত কোনো উদ্যোগ নেওয়া হবে না।

গত ২৫ নভেম্বর রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রায়ের জন্য গতকাল দিন ধার্য করেছিল হাইকোর্ট। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, আহসানুল করিম ও কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের বলেন, ‘নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে প্রক্রিয়াটি (চুক্তি সম্পর্কিত) আছে, সেটি জ্যেষ্ঠ বিচারক অবৈধ ঘোষণা করেছেন। অন্যদিকে কনিষ্ঠ বিচারক দ্বিমত জানিয়েছেন। এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি এটিকে তৃতীয় বেঞ্চে পাঠাবেন। সেই বেঞ্চে আবার শুনানি হবে।’ তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যেহেতু এখনো বিচারাধীন, তাই বর্তমান সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নিলে সেটি আনফেয়ার (অন্যায্য) হবে।’

অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনিক আর হক সাংবাদিকদের বলেন, ‘এখন বিষয়টি প্রধান বিচারপতির কাছে যাবে। তিনি বিষয়টি ভিন্ন বেঞ্চে নিষ্পত্তির জন্য পাঠাবেন।’ তিনি বলেন, ‘চুক্তি-প্রক্রিয়ার চলমান কার্যক্রম চালাতে আইনি কোনো বাধা নেই।’