বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর ও টার্মিনাল ইজারা বন্ধের দাবিতে যমুনা অভিমুখে বাম দলগুলোর বিক্ষোভ মিছিলে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। এতে বেশ কয়েকজন বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় নেতাসহ অন্তত ১৫ জন আহত হন। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী গণতান্ত্রিক জোট, ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা, বাংলাদেশ জাসদ ও জাতীয় গণফ্রন্টের উদ্যোগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করা হয়। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল প্রেস ক্লাব থেকে বের হয়ে বিজয়নগর হয়ে কাকরাইল এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। জোটের নেতাদের অভিযোগ, এ সময় পুলিশ হঠাৎ মিছিলে লাঠিপেটা করলে বাম দলের নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এ সময় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। লাঠিপেটায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ ক্বাফী রতন, ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কোষাধ্যক্ষ রুহুল আমিন, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা সীমা দত্ত, বাসদের আলমগীর হোসেন, নারীনেত্রী শবনম হাফিজ, ছাত্রফ্রন্টের নেতা সুস্মিতা মরিয়ম, সোহাইল আহমেদ শুভ, ছাত্রলীগ (বিসিএল) নেতা মাহবুব হোসেন, বাসদ (মাহবুব) নেতা বাবু, সজিব, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা রাসেল আহমেদ, শোয়াইব আহম্মেদ আসিফ, সাদিয়া ইমরোজ ইলা, অন্তুসহ অন্তত ১৫ জন।
বিক্ষোভকারীরা এ সময় মা-মাটি মোহনা, বিদেশিদের দেব না, বাংলাদেশের প্রবেশদ্বার, বিদেশিদের হবে না, পুলিশ দিয়ে আন্দোলন, বন্ধ করা যাবে নাসহ বিভিন্ন সেøাগান দিতে থাকেন। সেখানেই বাম জোটের কয়েকজন নেতারা বক্তব্য দেন।
নেতারা বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার জনমত উপেক্ষা করে এবং এখতিয়ারবহির্ভূতভাবে পতেঙ্গার লালদিয়া চরে কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণের জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালের সঙ্গে ৪৫ বছরের জন্য, আর কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ-টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি মেডলগ এসের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি করেছে। প্রয়োজনীয় বোর্ড সদস্য ছাড়াই অনুমোদন নেওয়া হয় এবং সম্পূর্ণ অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় মূল্যায়ন কমিটিকে পাশ কাটিয়ে ৭ ও ৮ নভেম্বর সাপ্তাহিক ছুটির দিনে চুক্তি-নেগোসিয়েশন ও চূড়ান্ত দলিলের কাজ দেশবাসীকে অজ্ঞাত রেখে সম্পন্ন করা হয়। পরে ১৭ নভেম্বর সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিচারের রায়ের দিনে অত্যন্ত গোপনে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে চুক্তিটি স্বাক্ষর করা হয়।
বিডার চেয়ারম্যান বলেছেন, চুক্তির বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছে। শুধু তাই নয়, নিউমুরিং, মোংলা, পতেঙ্গা বন্দরও বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার পাঁয়তারা চলছে।
নেতারা আরও বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের এ ধরনের চুক্তি করার কোনো এখতিয়ার নেই। তার উচিত দ্রুত নির্বাচন দিয়ে সরে যাওয়া। চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত স্থানে বিদেশি কোম্পানিকে বন্দর নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ইজারা দেওয়া আমাদের দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ। এ ধরনের দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে দেশবাসীকে রাজপথে নেমে আসতে হবে।’
নেতারা যুমনা অভিমুখে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, দমন-পীড়ন-নির্যাতন করে দেশের সম্পদ রক্ষার আন্দোলন থেকে বামপন্থিদের সরানো যাবে না।
তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নেতাকর্মীদের আহত করে মো. ইউনূস ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না। প্রয়োজনে দেশব্যাপী হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে। বন্দর ইজারা দেওয়া, করিডর প্রদান, অস্ত্র কারখানার মতো চুক্তি থেকে সরে না এলে ড. ইউনূসের পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন করা হবে। নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আগামীকাল (শুক্রবার) প্রতিবাদ বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশি হামলার প্রতিবাদে আজ দেশব্যাপী বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাম জোট। পাশাপাশি আগামীকাল বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল হবে।