যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্স শহরে শুরু হয়েছে ‘ক্যাটাহুলা ক্রাঞ্চ’ নামে ব্যাপক ফেডারেল অভিবাসন অভিযান। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) পরিচালিত এই অভিযানে শহরের লাতিনো অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে দেশজুড়ে বড় শহরগুলোতে যে ধরপাকড় চলছে, নিউ অরলিন্স তার চতুর্থ লক্ষ্যবস্তু।
ডিএইচএস বলছে, অভিযানে মূলত সেই অনথিভুক্ত অভিবাসীদেরই টার্গেট করা হচ্ছে, যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক অভিযোগ রয়েছে। অভিযানের ঘোষণা দিতে গিয়ে সংস্থাটি একাধিক মাগশট প্রকাশ করে দাবি করেছে—স্যান্কচুয়ারি নীতি অনুসরণকারী শহরগুলো, বিশেষত নিউ অরলিন্স, এসব ব্যক্তিকে আইসিইর হেফাজতে না দিয়ে স্থানীয়ভাবে মুক্তি দিয়েছে। তবে আগের শহরগুলোতে চালানো অভিযানের ফাঁস হওয়া সরকারি তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়—সেখানে ধরা পড়াদের বেশিরভাগেরই অপরাধমূলক অতীত ছিল না।
সীমান্ত নিরাপত্তা কমান্ডার গ্রেগ বোভিনো জানিয়েছেন, তারা সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও বিপজ্জনক অভিবাসীদের ধরতে মাঠে নেমেছেন এবং অভিযান হবে আগ্রাসী। তবে নিউ অরলিন্স সিটি কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট জেপি মোরেল প্রশ্ন তুলেছেন—ফেডারেল কর্তৃপক্ষ যে পাঁচ হাজার লোক গ্রেপ্তারের লক্ষ্য নিয়েছে, শহর ও আশপাশের এলাকায় তত সংখ্যক সহিংস অপরাধী আদৌ আছে কি না।
বাইডেন প্রশাসনের সময় দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে অনথিভুক্ত অভিবাসন বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী রাজনীতিতে বড় ইস্যুতে পরিণত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান চালানোর ঘোষণা দেন।
নিউ অরলিন্সের স্থানীয় নেতৃত্ব এই কৌশলের বিরোধিতা করলেও লুইজিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর জেফ ল্যান্ড্রি অভিযানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। আটক অভিবাসীদের রাষ্ট্রের অ্যাংগোলা কারাগারে পাঠানোর সম্ভাবনাও রয়েছে—যা যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম সর্বোচ্চ নিরাপত্তাবেষ্টিত কারাগার।
ডেমোক্র্যাট নেতৃত্বাধীন নিউ অরলিন্সে এই অভিযান নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অবৈধ অভিবাসী বহিষ্কার অভিযান হিসেবে নথিভুক্ত হবে।