‘১১ লাখ টাকা ঘুষ নিল, কিন্তু ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি পদ দিলো না’

মেহেরপুরে বিএনপির কমিটি গঠনে অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলেছে দলীয় নেতারা। ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিটি গঠনের সময় একটি ইউনিয়নের সভাপতি পদে এক নেতার কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নেওয়ার পরও তাকে সেই পদ না দেওয়ায় মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক নেতা।

মেহেরপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি প্রার্থী আছিফুল হক মজনু লিখিত অভিযোগে জানান, কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির পদ পাইয়ে দিতে ফয়েজ মোহাম্মদ তার কাছ থেকে ১১ লাখ টাকা নিয়েছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি নেতা ফয়েজ মোহাম্মদ মেহেরপুর পৌর কলেজের প্রভাষক ও মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির বিতর্কিত সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদ প্রথমে আমার সাথে ৭ লাখ নেন। পরে আরও ৩ লাখ টাকা নেন। সর্বশেষ গ্রামের আপেল আলীর উপস্থিতিতে ফয়েজ মোহাম্মদ আরও ১ লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে দলীয় পদ বাণিজ্য করেন। যার সাক্ষীও রয়েছে। কথা ছিল ফয়েজ মোহাম্মদ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই আমাকে এই উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি করে কমিটি ঘোষণা দেবেন।

কিন্তু চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণের মাধ্যমে মনোহরপুর গ্রামের জাফর উল্লাহকে সভাপতি করে কোন নির্বাচন ছাড়াই ফেসবুকের মাধ্যমে অবৈধ একটি কমিটি ঘোষণা করেন। কুতুবপুর ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক অথবা সুপার ফাইভ কাউকেই না ডেকে ইউনিয়ন বিএনপির এই বিতর্কিত কমিটি ঘোষণা করা হয়।

তিনি কষ্টের সাথে জানান, ২৯ নভেম্বর যেদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন, সারা দেশের মানুষ দোয়া মিলাদ মাহফিলে ব্যাস্ত। ফয়েজ মোহাম্মদ তখন ঘুষের টাকা নিয়ে দলীয় পদ বিক্রি করে কমিটি ঘোষণা করেন। এটা আমাদের বিএনপির জন্য খুবই লজ্জার।

তিনি টাকার বিনিময়ে দেওয়া এই অবৈধ কমিটি বাতিল এবং বিতর্কিত এই সভাপতি ফয়েজ মোহাম্মদকে দল থেকে বহিষ্কার করে মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপি কমিটিকে বাঁচানোর জন্য জেলা কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে জোর দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আছিফুল হক মজনু বলেন- বিএনপি করার কারণে কত হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু বিনিময়ে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। নিঃস্ব হয়েছি। ফ্যাসিস্ট পতনের পর দলীয় পদ পেতে ঘুষ দিতে হবে আবার অতিরিক্ত ঘুষ দিলে পদ হারাতে হবে এটা স্বপ্নেও ভাবিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মেহেরপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফয়েজ মোহম্মদ বলেন-টাকাপয়সা লেনদেন করে কমিটি গঠনের সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। যদি এটাকে প্রমাণ করতে পারে, আমি রাজনীতি ছেড়ে দেব। অভিযোগকারী বিএনপি নেতা আছিফুল ওয়ার্ড সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। এরকম আরও তিন প্রার্থী ছিল। আছিফুল কুষ্টিয়ার আওয়ামীলীগের এক এমপির জামাই। সেই ছবিও আছে। তাছাড়া নারী কেলেঙ্কারী, অন্যের জমি দখলসহ অপরাধমূলক বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে আছিফুলের বিরুদ্ধে। সে কারণেই তাকে সভাপতি করা সম্ভব হয়নি।

এই প্রসঙ্গে মেহেরপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, এই ঘটনাটা আমার মনে হয় না সত্য। কারণ এটা সত্য হলে আমি আগেই জানতে পারতাম। কমিটিতে স্থান না পেয়ে তারা এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। কমিটি গঠন নিয়ে কোন আপত্তি অভিযোগ থাকলে তারা জেলা কমিটিকে না জানিয়ে সাংবাদিকদের বলবে কেন? এটা করে তারা দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছে।

এদিকে, সংবাদ সম্মেলন করে বিএনপি কমিটিতে টাকার বিনিময়ে পদ বিক্রির অভিযোগ করায় অভিযোগকারীর বাড়িতে ফয়েজ মোহাম্মদের লোকজন দাবি করে ২০-২৫ জন হামলাকারী তার বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ করেছে বলে জানান।