জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোর ইশতেহারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণের বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন বিশিষ্টজনরা। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে তুলা উন্নয়ন ভবনে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) আয়োজিত জাতীয় সেমিনারে তারা এ দাবি উত্থাপন করেন।
সেমিনার থেকে দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতের পাশাপাশি তাদের ক্রেতা অধিকার প্রতিষ্ঠায় একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার করেছে, ক্যাব এবং বাংলাদেশ সেফ এগ্রো ফুড ইফোর্টস-বিএসএএফই।
ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএসএএফইয়ের লিংক পরিচালক মাহমুদ হাসান। বক্তব্য দেন কৃষিবিজ্ঞানী ড. মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত পরিচালক কাওছারুল ইসলাম সিকদার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোহাম্মদ এনায়েত-ই-রাব্বি, বিএসটিআইয়ের উপপরিচালক এনামুল হক, কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. নজরুল ইসলাম, ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হুমায়ূন কবীর ভূঁইয়া, ক্যাবের ঢাকা জেলা কমিটির সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সামস এ খান এবং ক্যাবের নির্বাহী কমিটির সদস্য শওকত আলী খান।
বক্তারা বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণে কী করবেন, তা সুস্পষ্টভাবে তুলে ধরা প্রয়োজন। সরকারের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই খাতে গুণগত পরিবর্তন আনা সম্ভব। সরকারকে আরও নিবিড়ভাবে গবেষণা ও উপকরণ সহযোগিতায় ভূমিকা রাখতে হবে। জনগণ সরকারের কাছে প্রত্যাশা রাখে, কিন্তু সরকারের সক্ষমতা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হলে জনগণের অধিকার সুরক্ষিত হতে পারে।
তারা আরও বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক সেমিনার করে ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন তৃণমূলপর্যায়ে পৌঁছানো। যেহেতু ক্যাবের উপজেলাপর্যায়ে কমিটি রয়েছে, তাই তাদের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নাগরিকের ক্রেতা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। নিরাপদ খাদ্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য প্রতিষ্ঠানের সেতুবন্ধের মধ্যে ব্যাপক গ্যাপ রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চাপ দিতে হবে।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়েছে, দেশে নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ ও ভোক্তা অধিকার সুরক্ষা করা এখন জরুরি জাতীয় অগ্রাধিকার। কারণ প্রতিবছর প্রায় তিন কোটি মানুষ খাদ্যবাহিত রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বাজারে ভেজাল, বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন, অনিরাপদ পণ্য এবং অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ বাড়ছে। দেশে খাদ্য উৎপাদন ও বিপণন বেড়েছে। কিন্তু বাজারের ৭১ শতাংশ সবজিতে অতিরিক্ত কীটনাশক, তেলের নমুনায় বিপজ্জনক ট্রান্স-ফ্যাট এবং দুর্বল নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
আরও বলা হয়, ডিএনসিআরপিতে গত বছর জমা পড়া ৮০ হাজারের বেশি অভিযোগ থেকে জানা যায়, দেশে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন মারাত্মকভাবে বাড়ছে। এমতাবস্থায়, শক্তিশালী ভোক্তা অধিকার গড়ে তোলা এবং সর্বস্তরে ভোক্তাসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সরকারের নীতিকৌশলকে প্রভাবিত করা প্রয়োজন। কারণ, সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় দেশে সবার জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা সম্ভব। আর এর জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরে প্রযুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং শক্তিশালী অংশীদারত্ব জোরদার করা।
ক্যাবের সভাপতি বলেন, ‘আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের উচিত নাগরিকদের জন্য সেফ ফুড (নিরাপদ খাদ্য) নিশ্চিতের অঙ্গীকার করা।