পিলখানা হত্যাযজ্ঞ

আইজিপির বরখাস্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টাকে চিঠি

২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের তদন্তে নাম আসায় পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. বাহারুল আলমকে বরখাস্ত চেয়ে প্রধান উপদেষ্টার কাছে আবেদন করা হয়েছে। এতে পিলখানায় বিডিআর হত্যাযজ্ঞের ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টাকে   তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। গতকাল শনিবার ন্যাশনাল ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এস এম জুলফিকার আলী জুনু ডাকযোগে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর এ চিঠি পাঠান।

এতে বলা হয়, জাতীয় জীবনের এক করুণতম অধ্যায় ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাযজ্ঞ, যেখানে দেশের ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন নির্মমভাবে শহীদ হন এবং এই ঘটনা এখনো জাতীয় বেদনা ও বিচার প্রত্যাশার এক অমলিন স্মৃতি হয়ে আছে। চিঠিতে বলা হয়, সম্প্রতি জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের দাখিলকৃত রিপোর্টে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. বাহারুল আলমের নাম উত্থাপিত হওয়ায় দেশের ন্যায়বিচার, জনআস্থা এবং বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্ন নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে।

আইনজীবী জুলফিকার আলী জুনু বলেন, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব পালনরত একজন কর্মকর্তার নাম এমন একটি রাষ্ট্রদ্রোহী ও ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের তদন্তে উল্লেখ হওয়া, ঘটনাটিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও গুরুতর করে তুলেছে। জাতির রক্তাক্ত স্মৃতি বহনকারী এই ঘটনায় যে কোনো অভিযোগ, সংশ্লিষ্টতা, গাফিলতি বা দায়িত্বে ব্যর্থতার বিষয়ে পদে বহাল অবস্থায় থাকা ব্যক্তির অপরাধের  বিচারের স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জনবিশ্বাসের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে।

চিঠিতে বলা হয়, একজন উচ্চপদস্থ পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্টে নাম আসা সত্ত্বেও তার দায়িত্বে বহাল থাকা, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও বিচারব্যবস্থার ওপর জনমনে সন্দেহ তৈরি করছে।

আইনজীবী চিঠিতে তিনটি দাবি উল্লেখ করে বলেন, ২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাযজ্ঞ তদন্ত রিপোর্টে নাম আসায় বর্তমান আইজিপি বাহারুল আলমকে অবিলম্বে আইজিপি পদ থেকে অব্যাহতি বা বরখাস্ত করা হোক। মামলার পূর্ণাঙ্গ ন্যায়বিচার ও তদন্তের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তার ভূমিকা ও দায় নির্ণয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এছাড়া হত্যাযজ্ঞে স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে প্রধান উপদেষ্টার তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের দাবি জানান আইনজীবী।