জাতীয় লিগ: জাকিরের সেঞ্চুরিতে সিলেটের আশা বাঁচলো 

শিরোপার নিষ্পতির শেষ রাউন্ডে জমে ওঠা জাতীয় ক্রিকেট লিগে সিলেট বিভাগের স্বপ্নটা বাঁচিয়ে রেখেছেন জাকির হাসান। ১৩০ রানের হার না মানা ইনিংস খেলে বরিশালের প্রথম ইনিংসের রানের সঙ্গে ব্যবধানটা কমিয়ে এনেছেন এই বামহাতি ব্যাটসম্যান। ময়মনসিংহের সামনে কঠিন পথ, প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৭ রানে অলআউট হয়েছে তারা আর রাজশাহী ২৯২ রানের লিড নিয়ে এখনো খেলা চালিয়ে যাচ্ছে। রংপুরের বিপক্ষে খুলনার লিড ১৭৫ রানের, তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তারা হারিয়ে ফেলেছে ৫ উইকেট। মিরপুরে ঢাকার বিপক্ষেও ৯৪ রান তুলতে ৬ উইকেট নেই চট্টগ্রামের।

রাজশাহীতে ৯ উইকেটে ২৬৯ রান নিয়ে দিনের খেলা শুরু করে বরিশাল। ২৫ রানে অপরাজিত থাকা সোহাগ গাজী শেষ পর্যন্ত করেছেন ৬৮ রান, তাতে বরিশালের প্রথম ইনিংস শেষ হয়েছে ৩১২ রানে। জবাবে দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে সিলেটের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৪ রান। এর ভেতর জাকিরের রানই ১৩০! শীর্ষ পাঁচ ব্যাটসম্যানদের মধ্যে জাকির বাদে কেউই দুই অংকের রানে পৌঁছাতে পারেননি। মুবিন আহমেদ দিশান ২, আব্দুল্লাহ আল গালিব ৫, অমিত হাসান ৫ আর মুশফিকুর রহিম আউট হয়ে যান ৮ রানে। সকাল বেলাতেই রুয়েল মিয়ার জোড়া আঘাত সিলেটকে ব্যাকফুটে ঠেলে দিলে জাকির আর আশরাফুল হাসান রিহাদের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় সিলেট। ৪১ রান করা রিয়াদকে আউট করে ১১৩ রানের জুটিটা ভাঙ্গেন ইফতেখার হোসেন ইফতি। এরপর তোফায়েল আহমেদকে নিয়ে জারি রয়েছে জাকিরের লড়াই। সিলেট এখনো বরিশালের প্রথম ইনিংসের চেয়ে ৯৮ রানে পিছিয়ে। ম্যাচে সিলেট যদি পয়েন্ট হারায় আর অন্যদিকে যদি ময়মনসিংহ বিভাগ যদি বোনাস পয়েন্ট নিয়ে জিতে যায়, তাহলে প্রথমবার অংশগ্রহণেই শিরোপার স্বাদ পেতে পারে ব্রহ্মপূত্র পাড়ের দলটি। যদিও সেই সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে এসেছে প্রথম ইনিংসের ব্যাটিং ব্যর্থতায়।

প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৬০০০ রান পূর্ণ করা জাকিরের এটি ১৬তম সেঞ্চুরি। 

রাজশাহীর প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২১৯ রানে, ব্যাটিংয়ে নেমে ময়মনসিংহ প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়েছে মাত্র ১৩৭ রানে। নাঈম শেখ ৩৩, খালিদ হাসান ৩৭ রান করলেও এরপর কেউই ২০ রানও পার করতে পারেননি। ৫ উইকেট নিয়েছেন সানজামুল ইসলাম। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে রাজশাহী দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে তুলেছে ৬ উইকেটে ২১০ রান। ৪৭ রানে অপরাজিত রহিম আহমেদ আর ৪০ রান প্রীতম কুমারের। ৩ উইকেট আসাদুল্লাহ হিল গালিবের। রাজশাহীর লিড ২৯২ রানের, তাদের হাতে আরও ৪ উইকেট আছে আর তারপর সেই রানটা করতে হবে ময়মনসিংহকে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং ধ্বসের কবলে পড়েছে খুলনা। প্রথম ইনিংসে ৩০৮ রান করার পর রংপুরকে তারা প্রথম ইনিংসে অলআউট করে দেয় ১৭৪ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৭ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই খুলনার। সৌম্য সরকার ০, এনামুল হক বিজয় ৮, মোহাম্মদ মিথুন ১৯, আফিফ হোসেন ধ্রুব ০ আর শাহরিয়ার সাকিব করেছেন ০ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষে খুলনার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৪১ রান, লিড ১৭৫ রানের।

মিরপুরে ঢাকার বিশাল সংগ্রহের নিচে চাপা পড়েছে চট্টগ্রাম। ৬ উইকেটে ৫৪১ রান তুলে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করে ঢাকা। ক্যারিয়ারের প্রথম ফার্স্ট ক্লাস সেঞ্চুরিটা ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিতে পারেননি আনিসুল ইসলাম ইমন, আউট হয়ে যান ১৮৬ রানে। মার্শাল আইয়ুব করেছেন ১৬৫ রান। আগের দিন ২৭ রানে আহত হয়ে মাঠ ছাড়া আশিকুর রহমান শিবলী ফের ব্যাটিংয়ে নেমে করেছেন সেঞ্চুরি। ১৪ ফার্স্ট ক্লাস ক্যারিয়ারে তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি তার।

আশিকুর রহমান শিবলী

দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রামের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৯৪ রান। মাহমুদুল হাসান জয় করেছেন ৯ রান, ইয়াসির আলি রাব্বি আউট হয়েছেন ২০ রানে। ৩ উইকেট সুমন খানের। দ্বিতীয় দিন শেষে চট্টগ্রাম পিছিয়ে আছে ৪৪৭ রানে, ঢাকাকে আবার ব্যাট করাতে হলেও তাদের আরো আড়াইশ রান করতে হবে শেষ ৪ উইকেটে যেটা প্রায় অসম্ভব।