পেঁয়াজ আমদানির প্রভাব নেই খুচরা বাজারে

আমদানির অনুমতি দেওয়ার পর থেকেই দেশে আসতে শুরু করেছে ভারতীয় পেঁয়াজ। এতে পাইকারি বাজারে দাম কমতে শুরু করলেও খুচরা বাজারে কোনো প্রভাব নেই। উল্টো ঢাকার বাজারে কেজি ১০ টাকা বেড়েছে পেঁয়াজের দাম। প্রতি কেজি পেঁয়াজ ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্যমতে, এক মাস আগের তুলনায় ঢাকার খুচরা বাজারে এখন ২১ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি দামে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছরেরও একই সময়ের তুলনায় ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ বেশি।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার থেকে অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে আমদানির অনুমতি (আইপি) পাওয়া যাচ্ছে। যদিও প্রতিদিন ৫০টির বেশি আইপি দেওয়া হচ্ছে না। একেকটি আইপিতে পেঁয়াজের অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ ৩০ টন। এমন এক সময়ে এ পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে, যখন কি না কৃষকের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করবে। এ কারণেই কৃষি মন্ত্রণালয় আমদানির অনুমতির ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

জানা গেছে, খুচরায় দাম না কমলেও গতকাল রবিবার দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম কমেছে বলে জানা গেছে। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গতকাল পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। আমদানি হওয়া এসব পেঁয়াজ পাইকারি বাজারগুলোয় ৭০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন ওঠা মুড়িকাটা পেঁয়াজও বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়।

একই চিত্র দেখা গেছে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারেও। সেখানেও প্রতি কেজি পেঁয়াজে ৪০ টাকা পর্যন্ত দাম কমেছে। এতে করে দেশি পেঁয়াজের দাম পাইকারিতে ১৩০ থেকে ৯০ টাকায় নেমেছে। তবে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত নতুন পেঁয়াজ ৭০-৮৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান রকি ট্রেডার্স ৩০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়ে গতকালই তা দেশে এনেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের পেঁয়াজের ট্রাক দেশে এসেছে। আমদানির খবরেই বাজারে দাম কমে গেছে। আমদানি অব্যাহত থাকলে দাম আরও কমে আসবে।

হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপসহাকারী সংগনিরোধ কর্মকর্তা মো. ইউসূফ আলী জানান, দেশীয় কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় এতদিন পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ ছিল। গত ৩০ আগস্টের পর থেকে পেঁয়াজ আমদানি হয়নি। দেশে পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলে সীমিত পরিসরে আবারও আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। হিলি স্থলবন্দরের চারজন ব্যবসায়ী আজ (গতকাল) ১২০ টন পেঁয়াজ আমদানির অনুমতি পেয়েছেন। যার মধ্যে ৩০ টন দেশে এসেছে।

জানা গেছে, মাস দুয়েক আগে প্রায় ২ হাজার ৯০০টি পেঁয়াজ আমদানির আবেদন করা হয়েছিল। সরকার সে সময় আমদানির অনুমতি না দেওয়ায় ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের দাম বাড়িয়ে দেন। ৭০-৮০ টাকায় বিক্রি হওয়া এর দাম গত নভেম্বরের শুরুতেই ১২০ টাকায় উঠে যায়। এ অবস্থায়ও সরকারের বাণিজ্য ও কৃষি মন্ত্রণালয় আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়নি। সপ্তাহখানেক ধরে আবারও পেঁয়াজের দাম বাড়তে শুরু করলে এটি ১৫০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এ কারণে সীমিত পরিসরে আমদানির সুযোগ দিয়েছে সরকার।

গতকাল সচিবালয়ে কৃষির সার্বিক বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, কারসাজি করে পেঁয়াজের দাম বাড়ানোর সঙ্গে জড়িত চক্র খুঁজে বের করতে হবে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ না থাকলেও এর সঙ্গে কৃষি কর্মকর্তারা জড়িত থাকলে তাদের চাকরি থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

উপদেষ্টা বলেন, হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা বেড়ে গেছে। আজকে (গতকাল) আবার দেখলাম দাম একটু কমে গেছে। এ কারসাজিগুলো করে কৃষকদের যেমন ঠকানো হচ্ছে, ভোক্তাদের আরও বেশি ঠকানো হচ্ছে। এ চক্রটা খুঁজে বের করতে হবে। তিনি বলেন, অনেকে পেঁয়াজ আমদানির জন্য পাগল হয়ে গিয়েছিল। গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ উঠছে, মুড়িকাটা পেঁয়াজও ওঠানো শুরু হয়ে গেছে। এই মুহূর্তে বাজারে কিন্তু পেঁয়াজের কোনো সংকটও নেই। কিন্তু দামটা হঠাৎ বেড়ে গেছে, ভোক্তারা ভোগান্তিতে পড়েছে।

এ ছাড়া সবজির দাম সহনীয় পর্যায়ে আছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, যতই দিন যাবে, সবজির দাম কমবে। দাম যাতে এত না কমে যে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কৃষক যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এ বিষয়ে আমাদের সবার খেয়াল রাখতে হবে।