আজ সেই কাঙ্ক্ষিত জন্মদিন ধর্মেন্দ্রর; কী প্রার্থনা হেমা মালিনীর!

আজ ৮ ডিসেম্বর নব্বই’তম জন্মদিন বলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্রর। এই জন্মদিন নিয়ে কত আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল পরিবার ও বলিপাড়ায়! কিন্তু সব পরিকল্পনা ব্যর্থ করে জন্মদিনের কয়েকদিন আগে ২৪ নভেম্বর না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই কিংবদন্তি। প্রায় ছয় দশকের অভিনয়জীবনে যিনি ‘শোলে’ থেকে ‘চুপকে চুপকে’, ‘গুড্ডি’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক ‘রকি অউর রানি কি প্রেম কাহানি’ এবং ‘তেরি বাতোঁ  মে অ্যায়সা উলঝা জিয়া’ একের পর এক ছবিতে অভিনয় করে গেছেন। 

ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের পর প্রথম জন্মদিনে আবেগে ভেঙে পড়লেন তার জীবনসঙ্গী, অভিনেত্রী ও সাংসদ হেমা মালিনী। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ধর্মেন্দ্রকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে হেমা মালিনী লেখেন, ধরমজি। হ্যাপি বার্থডে, ‘আমার হৃদয়।’ সঙ্গে একটি লাল হৃদয়ের ইমোজি। সংক্ষিপ্ত শব্দে বলা সেই অনুভূতির গভীরতা কিন্তু ছিল প্রবল। 

পরের লাইনগুলোতেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে তার শোকের ভার। ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণের পর কেটে যাওয়া দিনগুলির কথা উল্লেখ করে হেমা লেখেন, “তুমি আমাকে ভেঙে দিয়ে চলে যাওয়ার পর দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। ধীরে ধীরে নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি, জীবনটাকে নতুন করে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করছি এই বিশ্বাস নিয়ে যে তুমি আত্মারূপে সব সময় আমার সঙ্গেই থাকবে।’ 

 স্বামীকে হারানোর কষ্টের মাঝেও অতীতের আনন্দময় স্মৃতিই যে তার সবচেয়ে বড় আশ্রয়, সেটাও খোলাখুলি স্বীকার করেছেন হেমা মালিনী। তিনি লেখেন, ‘আমাদের একসঙ্গে কাটানো আনন্দের মুহূর্তগুলো কোনওদিন মুছে যাবে না। সেগুলো বারবার মনে করলেই এক অদ্ভুত শান্তি আর সুখ পাই।’

সেই স্মৃতির মধ্যেই ফিরে তাকান তাদের পারিবারিক জীবনের দিকে। ধর্মেন্দ্রর সঙ্গে কাটানো বছরগুলোর জন্য ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হেমা লেখেন, ‘আমাদের দু’টি সুন্দর মেয়ের জন্য আমি কৃতজ্ঞ, যারা আমাদের একে অপরের প্রতি ভালোবাসাকে আরও দৃঢ় করেছে। এই সব সুন্দর, সুখের স্মৃতি আজীবন আমার হৃদয়ে থেকে যাবে।’ 

 বার্তার শেষে ধর্মেন্দ্রর প্রতি তার প্রার্থনাও জানিয়েছেন হেমা মালিনী। জন্মদিনে প্রয়াত অভিনেতার জন্য ঈশ্বরের কাছে শান্তি ও আনন্দের প্রার্থনা করে তিনি লেখেন, ‘তোমার নম্রতা, মানবিকতা আর চওড়া হৃদয়ের জন্য তুমি যে শান্তি ও সুখের অধিকারী, ঈশ্বর যেন তা তোমাকে দান করেন।’ 

পোস্টের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছেন তারা একসঙ্গে কাটানো কিছু হাসিমুখের মুহূর্তের ছবি শেয়ার করেন। ধর্মেন্দ্রর চলে যাওয়া শুধু বলিউডের জন্য নয়, তার পরিবারের জন্য এক গভীর শূন্যতা। আর সেই শূন্যতার মধ্যেই আজ, জন্মদিনে, ভালবাসা আর স্মৃতির আলোয় তাকে আবার একবার ছুঁয়ে রাখলেন হেমা মালিনী।  নীরবে, দৃঢ়ভাবে, গভীর শ্রদ্ধায়।