উৎসবের আবহে অনুষ্ঠিত হলো ঢাকা বোর্ড ক্লাব লিমিটেডের ২০২৫–২৬ বর্ষের নির্বাচন। গত শনিবার (৬ ডিসেম্বর) ক্লাব সদস্যদের উচ্ছ্বাস ও কৌতূহলের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় ভোট গ্রহণ। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত ১২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা হলে ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও প্রথম সভাপতি রুবেল আজিজ নিরঙ্কুশ জয় নিয়ে সভাপতি পদে নির্বাচিত হন। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, গত বর্ষের সভাপতি নাসির মাহমুদকে ১৬৮ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন।
সভাপতি পদের ফলাফলে দেখা যায়, মোট ১ হাজার ৬৩৯ ভোটের মধ্যে রুবেল আজিজ পেয়েছেন ৯০২ ভোট, আর নাসির মাহমুদ পেয়েছেন ৭৩১ ভোট। ভোটের ফল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই মঞ্চে এক সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। নবনির্বাচিত সভাপতি রুবেল আজিজ অত্যন্ত সংযত কণ্ঠে সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিদ্বন্দ্বী নাসির মাহমুদকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। নাসির মাহমুদও হাসিমুখে পরাজয় মেনে নিয়ে নতুন সভাপতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
নির্বাহী কমিটির ১০টি সদস্যপদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ১৭ জন। এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৪৪ ভোট পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেন মোহাম্মদ আব্দুস সবুর খান। নবনির্বাচিত অন্য সদস্যদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন- মোহাম্মদ নাকিব উদ্দীন সরকার অপু ১ হাজার ৯৮ ভোট, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ১ হাজার ১২ ভোট, খালেদা আক্তার জাহান ৯৮১ ভোট, জেসমুল হুদা মেহেদী অপু ৯৬৯ ভোট, মির্জা অনিক ইসলাম ৯৪২ ভোট, আসমা আজিজ ৯২৩ ভোট, সৈয়দ আবু সোলায়মান ৮৯৮ ভোট, আলিম আল কাজী তুহিন ৮৭৩ ভোট, ও মোহাম্মদ মনির হোসেন ইমন ৮৪০ ভোট। নির্বাহী কমিটির ভোটে মোট ১৮টি ভোট বাতিল হয়েছে।
এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আবারও আলোচনায় আসে ঢাকা বোর্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস। তুরাগ নদীর তীরে সাভারের বিরুলিয়ায় ২০১৪ সালে সাত উদ্যোক্তার হাত ধরে যাত্রা শুরু হয়েছিল এই ক্লাবের। ভূমি নির্বাচন, মাস্টার প্ল্যান, প্রশাসনিক কাঠামো—প্রতিটি ধাপে রুবেল আজিজ ছিলেন প্রধান নেপথ্যশক্তি। সাত বছরের দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ২০২১ সালে এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। নদীকেন্দ্রিক বিনোদন ও সংস্কৃতির অনন্য ধারণা নিয়ে গড়ে ওঠা ক্লাবটি অল্প সময়েই রাজধানীর অভিজাত সামাজিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পায়।
প্রথম সভাপতি ছিলেন রুবেল আজিজ; এরপর সাবেক আইজিপি বেনজির আহমেদ বিনা নির্বাচনে প্রায় ১০ বছর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নির্বাচনবিহীন সেই সময়ের পর ২০২৩ সালে যে প্রথম আনুষ্ঠানিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, সেটি সদস্যদের বহুদিনের দাবির প্রতিফলন ছিল। এ বছরের নির্বাচন তাই শুধু নেতৃত্ব নির্বাচন নয়—ঢাকা বোর্ড ক্লাবের ভবিষ্যৎ কাঠামো, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে সামনে এগিয়ে যাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
জয়ী হওয়ার পর রুবেল আজিজ জানান, ক্লাবের জন্য যে বৃহৎ প্রকল্প পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে ঢাকা বোর্ড ক্লাব শুধু বাংলাদেশ নয়—পুরো এশিয়ার অন্যতম বৃহত্তম ক্লাবে পরিণত হবে। তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, প্রশাসনিক কাঠামো আন্তর্জাতিক মানে পুনর্গঠন করতে সকল সদস্যের মতামতকে সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করবেন।
সদস্যদের কাছেও রুবেল আজিজের প্রতি রয়েছে গভীর আস্থা। তারা মনে করেন—তিনি একজন সংগঠকই নন, একজন নেতা যিনি মানুষকে সম্মান করতে জানেন এবং সবার মতকে গুরুত্ব দেন। ক্লাবের প্রতিটি ইট-পাথরে তার শ্রম ও স্বপ্নের স্পর্শ রয়েছে বলেই তারা দাবি করেন।
সব মিলিয়ে, সদ্য অনুষ্ঠিত নির্বাচন শুধু ভোট-ব্যালটের প্রতিযোগিতা নয়; এটি ঢাকা বোর্ড ক্লাবের পরবর্তী দশকের পথচলা নির্ধারণের এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত—একটি সুশৃঙ্খল, নান্দনিক ও আন্তর্জাতিকমানের ক্লাব গড়ে তোলার নতুন সূচনা।
অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের টেস্ট নতুন ভেন্যুতে আয়োজনের উদ্যোগ
স্ত্রী-কন্যাসহ গ্রেপ্তার বিক্রম ভাট