চট্টগ্রাম কলেজ রোডস্থ ঐতিহাসিক প্যারেড মাঠকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন রূপে সাজানোর ঘোষণা দিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, মাঠটিকে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং ক্রীড়াবিদদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ খেলাধুলার উপযোগী মাঠ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
সোমবার দুপুরে (৮ ডিসেম্বর) চকবাজারের চট্টগ্রাম কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উদ্যোগে আয়োজিত আন্তঃ কলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ২০২৫ এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ সব কথা বলেন।
চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ইলিয়াছ উদ্দিন আহাম্মদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান আবু জাফর চৌধুরী ও সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল করিম চৌধুরী, সরকারি মহসিন কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বেনু আরা বেগম ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর সারাহ পারীন, সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু সালেহ মো. নঈমুদ্দিন ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জসিম উদ্দিন, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর রেজা খান হেলালী ও উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবদুল্লা আল মামুন চৌধুরী, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শরাফত হোসেন, পটিয়ার সরকারি কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোজাম্মেল হক।
মেয়র ডা. শাহাদাত বলেন, এ মাঠ আমার শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত জায়গা। এখানে আমি খেলাধুলা করে বড় হয়েছি। তাই এই মাঠকে আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন করে সাজানো আমার দায়িত্ব। ইনশাআল্লাহ গ্যালারি এবং ওয়াকওয়েসহ একটি অত্যন্ত সুন্দর, উন্নত মানের খেলার মাঠ হিসেবে প্যারেড মাঠকে নতুন করে গড়ে তুলবো।
তিনি জানান, সিটি কর্পোরেশন ইতোমধ্যে নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নগরের মহসিন কলেজ মাঠ, বাকলিয়া স্কুল মাঠ, বহুরূপী মাঠ, ফিরোজশাহ মাঠ, আগ্রাবাদ শিশুপার্ক সংলগ্ন জাম্বুরি মাঠ, হালিশহর বিডিআর মাঠসহ বিভিন্ন মাঠে সংস্কার কাজ চলছে।
মেয়র বলেন, গত ১৬ বছরে সমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যাগুলোর একটি কিশোর গ্যাং সংস্কৃতি। তরুণদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি করলে তাদের সঠিক পথে আগানো সহজ হবে। কিশোর অপরাধ দমনে মাঠ-ভিত্তিক কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা না করলে সুস্থ মন ও দেহ গঠন সম্ভব নয়। ‘সাউন্ড মাইন্ড ইন এ সাউন্ড বডি’—এই দর্শন বাস্তবায়নে নগরে খেলার মাঠ বাড়ানোর উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।