ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনে কার্যক্রম স্থগিত চেয়ে করা রিট আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত। গতকাল সোমবার বিকেলে বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি রাজিউদ্দিন আহমেদের দ্বৈত বেঞ্চ আইনজীবীর আরজির পরিপ্রেক্ষিতে আবেদনটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজের এ আদেশ দেয়। গত ৩ ডিসেম্বর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট আবেদনটি করেন ‘বাংলাদেশ কংগ্রেস’র মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইয়ারুল ইসলাম।
অ্যাডভোকেট ইয়ারুল দেশ রূপান্তরকে জানান, রিট মামলাটি হাইকোর্টের বেঞ্চের কার্যতালিকায় ৫২৮ নম্বরে ছিল। সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পর তিনি আদালতে গিয়ে আবেদনটি শুনানির জন্য উপস্থাপন করতে চাইলে আজ মঙ্গলবার শুনানি হবে বলে মৌখিকভাবে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। গতকাল বিকেলে ইয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরের দিকে আমি সিদ্ধান্ত নিই যে এই মামলা আমি আর চালাব না। বিকেল ৪টার দিকে আমি হাইকোর্টের এই বেঞ্চে গিয়ে মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি উপস্থাপন করি। হাইকোর্ট তখন উষ্মা প্রকাশ করে বলে, ‘দেশে এখন নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। তাই দেশের ক্ষতি হয়, এ ধরনের রিট পিটিশন যৌক্তিক হবে না।’
তিনি বলেন, ‘দেশের ক্ষতি হয় এমন কোনো মামলা আমি চালাব না এবং মামলাটি আমি ‘আউট অব লিস্ট’ (কার্যতালিকা থেকে বাতিল) চাই। হাইকোর্ট বলে, তারা ‘নট প্রেসড রিজেক্ট’ (উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ) করবে। কার্যত এই রিট মামলার কোনো শুনানি হয়নি। ফলে মামলাটি উত্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়েছে এবং এ বিষয়ে আমি কোনো পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় যাচ্ছি না।’
এর আগে রিট আবেদনে তিনি নির্বাহী বিভাগ থেকে নির্বাচন কমিশনের সচিব, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করেন। পাশাপাশি ইলেক্টরাল সার্ভিস কমিশন গঠন করে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন অফিসারদের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগের বিষয়ে রুলের আরজি জানান আইনজীবী। একই সঙ্গে রুল বিচারাধীন অবস্থায় নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চান রিটকারী। অ্যাডভোকেট ইয়ারুল তখন বলেছিলেন, নির্বাহী বিভাগের লোক দিয়ে ইসি সচিবালয় ও নির্বাচন পরিচালনা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিচার বিভাগের মতো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসিরও নিজস্ব লোকবল থাকতে হবে। সংবিধান অনুসারে নির্বাচন পরিচালনা করবে ইসি। নির্বাহী বিভাগ ইসিকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে। এর ধারাবাহিকতায় রিট আবেদনটি গতকাল শুনানির জন্য হাইকোর্টের এই বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে।
অন্তর্বর্তী সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে নির্বাচন আয়োজনের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।