টানা চারদিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বইছে দেশের সর্বউত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহ শেষের দিকে হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া অফিস জানায়, জেলা জুড়েই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, তাপমাত্রা এখনও মৃদু শৈত্যপ্রবাহের ঘরেই রয়েছে। ডিসেম্বরের শুরুতেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সামনের দিনগুলোতে শৈত্যপ্রবাহ আরও জোরদার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। রাতে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং কুয়াশাও ঘন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে তিনি।
এদিকে ভোর থেকেই জেলাজুড়ে ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যান চলাচল ধীরগতির ছিল এবং দুর্ঘটনা এড়াতে যানবাহনের হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হয়। সকাল ৮টা পর্যন্ত সড়কপথ ও আশপাশের মাঠ-ঘাট কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ে থাকতে দেখা গেছে। শীত বাড়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে অনেকেই বাড়িঘর ও রাস্তার মোড়ে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।
অন্যদিকে শীত মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এ জেলায় ৩০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল কিনে পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নের বিতরণ করা হয়। আরো ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদাপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাজী মুহম্মদ সায়েমুজ্জামান জানান, যে সকল এনজিও পঞ্চগড়ে কম্বল বিতরণ করতে চান, দয়া করে সংখ্যায় কম হলেও মানসম্মত কম্বল দেবেন। যে কম্বলে পা ঢাকলে মাথা খোলা থাকে তা দিয়ে লাভ নেই। প্রতিবছর একজনকে কম্বল দেওয়াও ঠিক না। তাকে নির্ভরশীল করার দরকার নেই।
ডিসি জানান, দেশের সবচেয়ে বেশি শীত প্রধান জেলায় যারা গরম কাপড় দিতে আসতে চান আমাকে জানাবেন। আমি আপনাদের থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করবো। তবে বিষয় একটাই। প্লিজ মানসম্মত উন্নতমানের কম্বল দিন। একটা মানসম্মত কম্বল পেলে একটা পরিবার সারাজীবন ব্যবহার করতে পারবে।