বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় নির্মাণাধীন ১২টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ও একটি কম্বাইন্ড সাইকেল (সমন্বিত) বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের জন্য সরকারি ক্রয়মূল্য অনুমোদন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে সরকার ২০ বছর মেয়াদে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনবে। গতকাল মঙ্গলবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ৪৯তম সভায় এই দর অনুমোদন হয়েছে।
সভায় খাদ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ¦ালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মোট ২৫টি ক্রয় প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ১২টি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে। এছাড়া ময়মনসিংহে স্থাপিত কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ২১০ মোগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ার কথা।
জানা গেছে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণাধীন ২০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার জন্য ৭ হাজার ৬৯৩ কোটি ৪৬ লাখ ৫৬ হাজার টাকা প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের আওতায় কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাবনায় নির্মাণাধীন একটি ১৫০ মেগাওয়াটের সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ হাজার ৩২১ কোটি ৭১ লাখ টাকা। একইভাবে নোয়াখালীর সুধারামে ১০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুতের জন্য ৩৯৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা, চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ১৮ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুতের জন্য ৭৫৮ কোটি ৯৯ লাখ ৩ হাজার টাকা, মৌলভীবাজারের ২৫ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুতের জন্য ১ হাজার ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা, চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নির্মাণাধীন কেন্দ্রের ২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ১ হাজার ৬৯৮ কোটি, চকরিয়ার নির্মাণাধীন প্ল্যান্টের ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের জন্য ৪ হাজার ৪৩ কোটি টাকা, নীলফামারীর জলঢাকায় ২ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ মেগাওয়াট, রামুতে ৩ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ মেগাওয়াট, বিবিয়ানায় ২ হাজার ১৭১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫০ মেগাওয়াট, মোংলায় ৪ হাজার ৪১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০০ মেগাওয়াট, পাবনার হেমায়েতপুরে ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ৭০ মেগাওয়াটের সোলার পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর বাইরে রুরাল কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক ময়মনসিংহে স্থাপিত ২১০ মেগাওয়াটের কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎদেন্দ্রের পুনর্নির্ধারিত ট্যারিফ অনুমোদন করা হয়েছে। এর দর নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১২৮ কোটি ৯৫ লাখ টাকা।
এছাড়া সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির এই সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্যাকেজ ৭ এর আওতায় ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সেদ্ধ চাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। ২১৪ কোটি ৯০ লাখ ৯ হাজার ৮৬০ টাকা ব্যয় হবে এই চাল আমদানি করতে। প্রতি মেট্রিক টন চালের দাম ধরা হয়েছে ৩৫১ দশমিক ৪৯ মার্কিন ডলার। ভারতের নিউট্রিএগ্রো ওভারসিজ নামের একটি কোম্পানি সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে এই চাল সরবরাহ করবে।
ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের জন্য ২০ হাজার মেট্রিক টন ফসফরিক এসিড আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৯৪ কোটি ২৩ হাজার ৮৭২ টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৭৪৫ দশমিক ২০ মার্কিন ডলার। সৌদি আরবের সাবিক এগ্রি নিউট্রিয়েন্ট থেকে ১১তম লটের ৪০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৩ কোটি ৯ লাখ ১৫ হাজার ৫২০ টাকা। প্রতি মেট্রিক টন ইউরিয়ার মূল্য ধরা হয়েছে ৪১৩ দশমিক ৪৬ মার্কিন ডলার। একইসঙ্গে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি) ও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তির আওতায় ১০ লটের ৪০ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এতে ব্যয় হবে ১৭২ কোটি ৬৫ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রতি মেট্রিক টনের মূল্য ধরা হয়েছে ৩৫১ দশমিক ৫০ মার্কিন ডলার।
এর বাইরে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসারে ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ স্পট মার্কেট থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ৭২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। টিসিবির জন্য এই ডাল কেনা হচ্ছে।