অনার কিলিংয়ের শিকার গর্ভের যমজ সন্তান!

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় পরিবারের অমতে বিয়ে করায় চরম অমানবিকতা ও নিষ্ঠুরতার শিকার হয়েছেন এক তরুণী। পরিবারের সদস্যরা মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে মণি আকতার নামের সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ওই তরুণীর গর্ভপাত ঘটিয়েছেন। এতে গর্ভে থাকা যমজ দুই ‘কন্যার’ মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মণির শাশুড়ি হাছিনা বেগম আদালতে মামলা করেছেন। মামলায় পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে।

ঘটনাটি গত ২৮ নভেম্বর ঘটলেও একটি মহল ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। অনেকে এই ঘটনাকে ‘সম্মান রক্ষার্থে হত্যা বা অনার কিলিং’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।

অনার কিলিং বা সম্মান রক্ষার্থে হত্যা হলো এমন এক ধরনের হত্যাকাণ্ড যেখানে পরিবারের ‘সম্মান রক্ষার’ অজুহাতে পরিবারের সদস্য, বিশেষত নারীদের হত্যা করা হয়, কারণ তাদের বিরুদ্ধে সামাজিক, যৌন, ধর্মীয় বা পারিবারিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকে, যেমন পছন্দসই জীবনসঙ্গীকে বিয়ে করা বা যৌনসম্পর্ক স্থাপন করা। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অংশে প্রচলিত একটি প্রথা, যা পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর অধিকার খর্ব করার একটি অজুহাত হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। এ ধরনের ঘটনা গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিশ্ব জুড়ে এর তীব্র নিন্দা করা হয়। মামলা সূত্রে জানা গেছে, পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর ইউনিয়নের তালুক জামিরা হাজীপাড়া গ্রামের তৌহিদুল ইসলামের ছেলে স্বপন মিয়া (২২) সঙ্গে একই গ্রামের মাহাবুব রহমানের মেয়ে মণি আকতারের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ের তারা বিয়ে করেন। কিন্তু মণির পরিবার এই বিয়েতে রাজি ছিল না। পরে স্বপনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা করে মেয়ের পরিবার। তবে এর মধ্যে আপস করার লক্ষ্যে স্বপন ও মণিকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। উভয় পরিবারের সম্মতিক্রমে শরিয়ত মোতাবেক আবার তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্বপন মিয়া মণি আকতারকে নিয়ে ঢাকায় চলে যান। সেখানে মণি আকতার অন্তঃসত্ত্বা হন। সম্প্রতি ৭ মাসের গর্ভাবস্থায় মণি আকতারকে তার বাবা বাড়িতে নিয়ে আসেন। মণি আকতারের পরিবারের সদস্যরা তাকে আলট্রাসনোগ্রাম করার জন্য গাইবান্ধা শহরে নিয়ে যায়। সেখানে মণি আকতারকে ভয়ভীতি দেখিয়ে, বলপ্রয়োগ করে গর্ভপাত ঘটায়। এতে সাত মাসের দুটি কন্যাশিশু ভূমিষ্ট হয়। এদের একজন মৃত অবস্থায় ভূমিষ্ট হয় অন্যজন পরে মারা যায়।

হাছিনা বেগম বলেন, ‘স্বপন আমার ছেলে। ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করে। স্ত্রী নিয়ে ঢাকায় থাকত। কিন্তু মণির পরিবার আমার ছেলের সঙ্গে তাদের মেয়ের সংসার করাবে না। তাই অবৈধভাবে গর্ভপাত ঘটিয়েছে। নিষ্পাপ দুটি শিশুকে দুনিয়ার মুখ দেখতে দেয়নি। এই জঘন্য কাজের সুষ্ঠুু বিচার চাই।’

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বাদীপক্ষের আইনজীবী জেলা জজ আদালতের অতিরিক্ত পিপি মাসুদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ছেলের মা (নবজাতকের দাদি) বাদী হয়ে পলাশবাড়ী আমলি আদালতে মামলা করেছেন। আদালত পলাশবাড়ী থানা পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।’

এ বিষয়ে পলাশবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) প্রশান্ত চন্দ্র প্রামাণিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমারা এখনো আদালতের কোনো নির্দেশনা পাইনি। পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’