রাখাইনে হাসপাতালে সেনা বাহিনীর হামলায় নিহত ৩৪

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় অন্তত ৩৪ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৬৮ জন। রাখাইন রাজ্যের এক ত্রাণকর্মীর বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।

আগামী ২৮ ডিসেম্বর নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমার জান্তা। ভোটই লড়াইয়ের অবসানের পথ বলে দাবি করছে তারা। কিন্তু বিদ্রোহীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় এই নির্বাচন হতে দেবে না। এসব এলাকা পুনর্দখলে বর্তমানে লড়াই চালাচ্ছে সামরিক সরকার। বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে তীব্র হামলা চালাচ্ছে জান্তা।

গত ১০ ডিসেম্বর সীমান্তঘেঁষা রাখাইন রাজ্যের ম্রাউক–ইউ জেনারেল হাসপাতালটি বোমা হামলার শিকার হয়। ঘটনাস্থলে থাকা ত্রাণকর্মী ওয়াই হুন আউং জানান, সামরিক বাহিনীর একটি যুদ্ধবিমান হাসপাতালে বোমাবর্ষণ করে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি ভয়াবহ। আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা বিবিসিকে বলেন, নিহতদের বেশির ভাগই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী ছিলেন। এটি বেসামরিক স্থানে সেনাবাহিনীর নৃশংস হামলা। বেসামরিকদের বোমা হামলার দায় তাদেরই নিতে হবে। আরাকান আর্মির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে হামলার ঘটনা ঘটে। এদিকে, হাসপাতালে হামলার বিষয়ে কিছু জানায়নি মিয়ানমার সামরিক বাহিনী। জান্তার কোনো মুখপাত্রের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগও করা যায়নি। রাখাইন রাজ্যের প্রায় পুরোটাই নিয়ন্ত্রণ করে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। অং সান সু চির বেসামরিক সরকারকে উৎখাত করে সেনা অভ্যুত্থানের অনেক আগে থেকেই রাজ্যটিতে সক্রিয় ছিল এই গোষ্ঠীটি।

২০২১ সালে সেনা অভ্যুত্থানের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ মারা গেছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বহু বছর ধরে সেনা সরকার জাতিগত মিলিশিয়াদের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘাতে লিপ্ত। একপর্যায়ে দেশের অর্ধেকের বেশি অংশের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল। তবে সম্প্রতি চীন ও রাশিয়া থেকে প্রযুক্তি ও সরঞ্জাম আসায় পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। বিমান হামলা ও ভারী গোলাবর্ষণের মাধ্যমে জান্তা সরকার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করছে। চলতি বছরের শুরুর দিকে, একটি সেনাবাহিনী পরিচালিত মোটরাইজড প্যারাগ্লাইডার ধর্মীয় উৎসবে বিক্ষোভরত একটি জনতার ওপর দুটি বোমা ফেললে ২০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। জান্তা সরকারের অধীনে জনগণের স্বাধীনতাও নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলোর হিসাব অনুযায়ী, কয়েক হাজার রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না; বরং এটি সেনা সরকারকে বৈধতার আবরণ দেবে। জাতিসংঘের মিয়ানমারবিষয়ক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ টম অ্যান্ড্রুজ একে ‘ছদ্ম নির্বাচন’ বলে উল্লেখ করেছেন।