ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ যুক্তরাষ্ট্রের

ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে বিশালাকৃতির একটি জ¦ালানি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজ জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বুধবার বিকেলে ট্যাংকারটির নিয়ন্ত্রণ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে জানান, এই ট্যাংকারটি একটি অবৈধ তেল পরিবহন নেটওয়ার্কে জড়িত থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল। নিষেধাজ্ঞায় থেকে ভেনেজুয়েলা এবং ইরানের জ¦ালানি সরবরাহ করায় ট্যাংকারটি জব্দ করা হয়েছে।

এ ট্যাংকারে থাকা তেল যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের কাছে রেখে দেবে বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। সন্দেহভাজন মাদকবাহী অভিযানের পর এবারই প্রথম তেলবাহী ট্যাংকারের বিরুদ্ধে এমন অভিযান চালাল যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিজেদের সামরিক অবস্থান ক্রমেই জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ভেনেজুয়েলার অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোর সরকারকে উৎখাত করা ট্রাম্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের তেলের ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক জলদস্যু’ ও ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছে দেশটির সরকার। ভেনেজুয়েলা বলছে, তাদের তেল ও খনিজসম্পদ লুটপাটের উদ্দেশ্যেই যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পিত আগ্রাসন চালাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদ দখল করা। আমাদের দেশের বিরুদ্ধে এই আগ্রাসন মূলত জ¦ালানি সম্পদ লুণ্ঠনের একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের আসল কারণ অবশেষে সবার সামনে এসেছে। এটি অভিবাসন, মাদক পাচার, গণতন্ত্র বা মানবাধিকারের কোনো বিষয় নয়; আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ, আমাদের তেল ভেনেজুয়েলার জনগণের একচ্ছত্র মালিকানাধীন সম্পদের বিষয়,’ উল্লেখ করা হয় বিবৃতিতে। যুক্তরাষ্ট্রের এই কাজকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আচরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে ভেনেজুয়েলা বলেছে, তারা এই ‘গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধের’ বিরুদ্ধে বিদ্যমান সব আন্তর্জাতিক সংস্থার কাছে অভিযোগ জানাবে।