নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপারের নাম ও ছবি ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবৈধভাবে নারায়ণগঞ্জ জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শিল্পপতি-ব্যবসায়ীর কাছে টাকা দাবি করে আসছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১০ নভেম্বর সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে পুলিশ সুপারের ছবি হোয়াটসঅ্যাপে ব্যবহার করে বিকেএমইএ এর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেমের কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ডিবিবিএল ব্যাংকের একটি অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতে বলা হয়। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই মোহাম্মদ হাতেম নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে অবহিত করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ সুপার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইব্রাহিম হোসেনকে নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী জেলা গোয়েন্দা শাখার পুলিশ পরিদর্শক মো. মাহবুব হোসেনের নেতৃত্বে এসআই (নিঃ) মো. শরিফুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় আড়াইহাজার থানার এলাকায় ১১ ডিসেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ৩টায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মো. দ্বীন ইসলাম (৩৫) নামে এক প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার দ্বীন ইসলাম আড়াইহাজার থানার চৈতনকান্দা গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। জেলা পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেছেন যে, তিনি ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন জেলার ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের নাম-ছবি ব্যবহার করে ভুয়া হোয়াটসঅ্যাপ আইডি তৈরি করতেন এবং বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীর কাছে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা দাবি করতেন।
গ্রেপ্তারকৃত দ্বীন ইসলামকে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রতারণা ও চাঁদাবাজি আইনে মামলা রুজু করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে চক্রের পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।