রাজধানীর বাংলা মোটরে অবস্থিত বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর্ট গ্যালারিতে নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায় মণিপুরি জনগোষ্ঠীর মানুষের যাপিত জীবন নিয়ে এক আলোকচিত্র প্রদর্শনী শুরু হয়েছে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আলোর ইশকুল কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত ফটোগ্রাফি চক্রের মেন্টরশিপ প্রোগ্রামের অংশ হিসেবে এই বিশেষ এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে।
বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নৃতাত্ত্বিক সম্প্রদায় মণিপুরি জনগোষ্ঠীর ভাষা, আচার-অনুষ্ঠান, ধর্মবিশ্বাস, নৃত্যসংগীত, কারুশিল্প ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল। সময়ের বিবর্তনে নানা সম্প্রদায়ের মানুষের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য লোপ পেলেও এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম মণিপুরি জনগোষ্ঠী। তারা সময়ের প্রবাহে বহু পরিবর্তন ও অভিযোজনে বাধ্য হলেও জাগ্রত রেখেছে স্বকীয়তা। তাদের সেই জীবনযাপনের স্বকীয়তাই আলোকচিত্রের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন আলোকচিত্রী মো. কাউছার হাবিব সোমেল, মোহা. আসহাবুল হক নান্নু ও মোহাম্মদ হারুন আর রশীদ। দীর্ঘদিনের এই মেন্টরশিপ কার্যক্রমটি পরিচালনা করছেন বিশিষ্ট প্রশিক্ষক ও আলোকচিত্রী কে এম জাহাঙ্গীর আলম। সার্বিক সমন্বয় করেছেন আলোকচিত্রী ও সংগঠক মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ সুমন।
দীর্ঘদিনের এই যাত্রা নিয়ে কাউছার হাবিব সোমেল জানান, তারা মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের আদমপুরে ১৩ বার গিয়েছেন। বছরব্যাপী তারা ক্যামেরায় ধারণ করেছেন এই জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব, সাংস্কৃতিক আচার অনুষ্ঠান। মণিপুরি জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন কাছ থেকে দেখে তিনি অনুভব করেছেন তাদের সামাজিক শক্তির জায়গা। তিনি বলেন, প্রতিটি উৎসবে সমাজের প্রতিটি মানুষের অবদান থাকে, সে যত অল্প বা বিশালই হোক না কেন। সম্মিলিত শক্তিই তাদের স্বকীয়তাকে রক্ষা করতে ভূমিকা রেখেছে। আলোকচিত্রে তাদের এই অনন্য শক্তিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন বলে জানান এই আলোকচিত্রী।
মণিপুরি জনগোষ্ঠী নারী-পুরুষ নির্বিশেষে কাজ করে, তা গৃহকর্মই হোক বা কৃষিকাজ। তাদের এই বৈশিষ্ট্য লক্ষ করে আপ্লুত হয়েছেন আলোকচিত্রী আসহাবুল হক নান্নু। তিনি বলেন, নারী-পুরুষের মিলিত শক্তি সমাজ ও পরিবারকে যে স্বাচ্ছন্দ্যে এগিয়ে নিয়ে যায়, তা প্রত্যক্ষ করা যায় মণিপুরি জনগোষ্ঠীকে দেখলে। আমার আলোকচিত্রে এই বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি।
১২ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলবে ২০ ডিসেম্বর, প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের আর্ট গ্যালারি, ৪০২ নম্বর কক্ষে চলমান এই প্রদর্শনী সব দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত।